লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) - White Discharge (Leucorrhea) in Bengali

Dr. Rajalakshmi VK (AIIMS)MBBS

February 05, 2019

September 08, 2020

লিউকোরিয়া
লিউকোরিয়া

সারাংশ

লিউকোরিয়া মহিলাদের মধ্যে একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক অবস্থা। এটি একটি স্বচ্ছ তরল বা শ্লেষ্মা'র নিঃসরণ, যা যোনিকে আর্দ্র এবং পিচ্ছিল রাখে, এবং যোনিতে সংক্রমণে বাধা দেয়। একজন নারীর বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মেনোপোজ পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে হরমোনের মাত্রার তারতম্যের কারণে লিউকোরিয়া হয়। লিউকোরিয়ার লক্ষণগুলি, যেমন সাদা নিঃসরণ, কোন চুলকানি নেই এবং একটি আর্দ্র ভাব, ক্ষতিকারক নয় এবং কোন জটিলতা ছাড়াই সমাধান করা যেতে পারে। লিউকোরিয়ার অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে আছে অ-যৌন এবং যৌন সংক্রমণ সংক্রমণ। এই ধরণের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলি হল চুলকানি, লালচে ভাব, খারাপ গন্ধ, অস্বস্তি এবং ব্যথা। এই সংক্রমণ বন্ধ করার জন্য ওষুধ-পত্রের পাশাপাশি অন্যান্য সতর্কতা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার যাতে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে এবং কোন জটিলতা না বাড়ে। অত্যধিক বা অস্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লিউকোরিয়ার চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।

লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) এর উপসর্গ - Symptoms of Leucorrhea in Bengali

সাধারণত, অসংক্রমিত লিউকোরিয়া একটি পাতলা এবং স্বচ্ছ জলের মত স্রাব। সংক্রমণ হলে এর পরিমাণ, ঘনত্ব এবং রঙ বিভিন্ন রকমের হয়। এর সাথে অন্য উপসর্গও থাকতে পারে, যেমন:

লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) হওয়ার কারণ - Causes of Leucorrhea in Bengali

কারণসমূহ

বয়ঃসন্ধি, ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা এবং রজোবন্ধের সময় হরমোন-সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলোর ফলে লিউকোরিয়া বা সাদা স্রাব ঘটে। এছাড়াও এটা ঘটতে পারেঃ

  • গোপনাঙ্গ পরিস্কারক, তুলোর পট্টি, প্যাড, এবং প্যান্টি লাইনার-এর মত মেয়েলি স্বাস্থ্য দ্রব্যের ব্যবহার।
  • গর্ভনিরোধের জন্য ব্যবহৃত স্পারমিসাইডাল (একটা পদার্থ যা শুক্রাণু ধ্বংস করে) জেলি এবং মলমগুলো। (আরও পড়ুন – হাউ টু হ্যাভ সেফ সেক্স [কিভাবে নিরাপদ যৌনসংসর্গ করা যায়])
  • যৌনসঙ্গমের সময় সার্ভিক্স (যোনিপথের শেষ প্রান্তের নীচে ঘাড়ের মত একটা প্যাসেজ) এবং যোনিপথে আঘাত।
  • ডায়াবেটিস এবং অ্যানিমিয়ার (রক্তাল্পতা) মত অবস্থাগুলো।

জীবাণুগত এবং ছত্রাক-সংক্রান্ত সংক্রমণগুলো যা লিউকোরিয়া সৃষ্টি করে সেগুলোর অন্তর্ভুক্তঃ

  • ব্যাক্টেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস
    ব্যাক্টেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস (বিভি) ঘটে যখন যোনিপথে (ভ্যাজাইনা) জীবাণুর পুষ্টি বৃদ্ধি হয়। এটা 15 থেকে 44 বৎসর বয়সী মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যাপকভাবে ঘটা যোনিপথ-সংক্রান্ত সংক্রমণ, বিশেষ করে যৌনগতভাবে সক্রিয় মহিলাদের মধ্যে।  
  • থ্রাশ
    থ্রাশ, ক্যান্ডিডায়াসিস নামেও পরিচিত, হচ্ছে একটা ছত্রাক-ঘটিত সংক্রমণ যা এক ধরণের ইস্ট-এর কারণে ঘটে। ক্যান্ডিডা হল স্বাভাবিক শরীর অণুজীব এবং মুখ, গলা, অন্ত্র এবং সেই সাথে যোনিপথে কোনও উপসর্গ না ঘটিয়েই দেখতে পাওয়া যায়।   
  • ট্রিকোমোনিয়াসিস
    ট্রিকোমোনিয়াসিস হচ্ছে যৌনসংসর্গ দ্বারা সঞ্চারিত রোগ যা ট্রিকোমোনাস ভ্যাজিন্যালিস নামের পরজীবী (প্যারাসাইট) দ্বারা ঘটে। এটা একটা নিরাময়যোগ্য রোগ যা পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ট্রিকোমোনাস সংক্রমণগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সের মহিলাদের মধ্যে ঘটার সম্ভাবনা বেশি।  
  • ক্ল্যামিডিয়া
    ক্ল্যামিডিয়া হচ্ছে একটা যৌনসংসর্গ দ্বারা সঞ্চারিত রোগ, যার বিপদ বাড়ে যোনিপথগত, পায়ুগত (অ্যানাল) এবং এমনকি মুখগত যৌনসংসর্গ দ্বারা। তরুণ বয়স্ক ব্যক্তিরা যাঁরা যৌনগতভাবে সক্রিয় তাঁদের বিপদ বেশি।    
  • গনোরিয়া
    গনোরিয়া হল 15-24 বৎসর বয়সের মধ্যে অল্প বয়সী নারীদের আক্রমণ করা একটা সাধারণ যৌনসংসর্গ দ্বারা সঞ্চারিত রোগ।
  • জেনিটাল হারপিস (যৌনাঙ্গের হারপিস) 
    দু’ধরণের ভাইরাস আছে, যেমন হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস I (HSV-I) এবং হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস II (HSV-II) যা জেনিটাল হারপিস বা যৌনাঙ্গের হারপিস ঘটায়। HSV-I মুখগত হারপিস ঘটায় যা সাধারণ সর্দি বা জ্বরের কোনও ঘটনার সময়, আগে বা পরে কোল্ড সোরস-এর (ঠোঁটের উপরে বা চারপাশে ফোস্কা) দিকে নিয়ে যায়।  
  • পেলভিক ইনফ্ল্যামেটোরি ডিজিজ
    যদি যৌনসংসর্গ দ্বারা সঞ্চারিত রোগ চিকিৎসা না করে ফেলে রাখা হয়, সেগুলো পেলিভিক ইনফ্ল্যামেটোরি ডিজিজ (PID) হিসাবে পরিচিত একটা পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। স্ত্রী-প্রজনন নালীর অঙ্গগুলোকে আক্রমণ করে। বহুসংখ্যক যৌনসঙ্গী, একটা পিআইডির ইতিহাস, গর্ভনিরোধক কৌশলগুলোর ব্যবহারও পিআইডির বিপদ বাড়ায়।   

অন্যান্য কারণসমূহ:

  • সার্ভিকাল ক্যান্সার। 
  • সার্ভিসাইটিস (সার্ভিক্স-এর প্রদাহ)
  • যোনিপথগত ক্রমিক অবক্ষয় [ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফি] (রজোবন্ধের পর বয়স হওয়া এবং হরমোনগুলোর একটা ভারসাম্যহীনতার কারণে যোনিপথের টিস্যুর ভাঙ্গন)।
  • রেক্টোভ্যাজাইনাল ফিশ্চুলা (যোনিপথ এবং মলদ্বারের মধ্যে গড়ে ওঠা একটা অস্বাভাবিক ছিদ্রপথ যার মাধ্যমে যোনিপথে মল ঢুকতে পারে)।
  • ভ্যাজাইনাল ক্যান্সার
  • ভ্যাজিনাইটিস (যোনিপথের প্রদাহ)।
  • রজঃস্রাবের সময় রেখে দেওয়া তুলোর পট্টি।
  • ডুশ, সুগন্ধযুক্ত স্প্রের ব্যবহার।

ঝুঁকির বিষয়গুলো

কোনও প্যাথলজি (রোগের কারণ এবং প্রভাব সংক্রান্ত বিজ্ঞান) ছাড়া লিউকোরিয়ার ঝুঁকি অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন মহিলার বয়স, শিক্ষাগত অবস্থান, পারিবারিক পরিবেশ, গর্ভধারণের সংখ্যা, গর্ভনিরোধকগুলোর ব্যবহার এবং বাচ্চার জন্মের পদ্ধতি। অস্বাভাবিক যোনিপথগত স্রাবের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় যেসব ক্ষেত্রেঃ

  • যৌনগতভাবে সক্রিয় ব্যক্তিগণ।
  • বহুসংখ্যক যৌনসংসর্গের সঙ্গী।
  • অতীতের চিকিৎসা না করা সংক্রমণ।
  • অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গ।
  • 25 বৎসর বয়সের নীচে যৌনগতভাবে সক্রিয় মহিলারা।
  • যৌনসংসর্গজনিত সঞ্চারিত রোগগুলোর পূর্বতন ইতিহাস।
  • এইচআইভি সংক্রমণ।
  • দুর্বল অনাক্রম্যতা (ইমিউনিটি)
  • প্রায়ই কন্ডোম ব্যবহার না করা।
  • গর্ভনিরোধক কৌশলগুলোর ব্যবহার।

লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) এর চিকিৎসা - Treatment of Leucorrhea in Bengali

ওষুধ-পত্র

মাইক্রোবিয়াল বিরোধী ওষুধের সংক্ষিপ্ত কোর্সে দিয়ে লিউকোরিয়ার চিকিৎসা করা যেতে পারে। যোনি থেকে স্রাবের অস্বাভাবিক নির্গমনের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরনের উপর চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করবে। ক্যানডিডার সংক্রমণের ক্ষেত্রে ছত্রাক-বিরোধী ওষুধের একটি কোর্স দেওয়া হয়। বি-ভি'র উপসর্গগুলি কোন চিকিৎসা ছাড়াই ঠিক হয়ে যায়। হারপিসের কোন নিরাময় নেই। ভাইরাস-বিরোধী ওষুধ  রোগের প্রাদুর্ভাব কম করতে পারে। বর্তমানে, হারপিস বিরোধী কোন ভ্যাকসিন নেই, যদিও বিভিন্ন ক্লিনিকাল পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে।

আপনার খাবারে মেথি, শুকনো ধনে, পাকা কলা হাল্কা লিউকোরিওয়ায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। "পিপ্পল" গাছ, ফিকাস রাসেমোসা এবং থেস্পিয়া'র মত আয়ুর্বেদিক ওষুধগুলি স্রাবের নিঃসরণ হ্রাস করতে পারে।

জীবনধারার পরিবর্তন

ওষুধ এবং ভেষজ চিকিৎসার সাথে সাথে সঠিক স্বাস্থ্য-বিধি মেনে চলাই সর্বোত্তম উপায়।

  • কৃত্রিম কাপড়ের তৈরি অন্তর্বাস পড়া এড়িয়ে চলুন। সূতির বা লিনেনের পান্টি পড়ুন। জ্বালা-মুক্ত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। যৌনাঙ্গের এলাকা অতিরিক্ত ধুয়ে ফেলবেন না কারণ এটি পি-এইচ ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়ার অত্যধিক বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।
  • ডাম্প গ্রহণের পরে যোনিতে সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে ধোয়ার সময় এক বার সামনের দিকে তার পরের বার পিছনের দিকে যান।
  • প্রতিবার প্রস্রাবের পরে যোনি অঞ্চল পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন।
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলি বার করে দিতে প্রতি দিন 10 থেকে 12 গ্লাস জল পান করুন।
  • হাঁটা, জগিং, যোগ ব্যায়াম, ধ্যানের মত হাল্কা ব্যায়াম করুন, কারণ ভারী ব্যায়ামগুলি লিউকোরিয়ার বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
  • শুধু মাত্র একজন সঙ্গীর সাথে যৌন সম্পর্ক রাখুন।
  • প্রতিটি যৌন কার্যকলাপের সময় ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করুন।

লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) কি - What is Leucorrhea in Bengali

বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ হচ্ছেন প্রজননকারী বয়সের নারীরা। ভারতবর্ষে, 2001 সালের আদমশুমারি অনুসারে এই বয়সের নারীরা হচ্ছেন জনসংখ্যার 19%। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে যোনির স্রাব একটি অবহেলিত সমস্যা, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যারা বসবাস করেন। মহিলা প্রজনন অঙ্গের সংক্রমণগুলি ভারত ও বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগের কারণ যেখানে প্রজনন অঙ্গে সংক্রমণের ঘটনার পরিসর 52-92%'এর মধ্যে। যদিও লিউকোরিয়া যোনির একটি স্বাভাবিক স্রাব, তবুও এটা এখনও একটি রোগ বলে মনে করা হয়। লিউকোরিয়া যদিও  প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের একটি উপসর্গ, তবুও যোনির স্রাব 3 থেকে 10 বছরের বয়সের প্রাক-যুবতী মেয়েদের মধ্যে দেখা যেতে পারে।

লিউকোরিয়া অন্য কোন রোগের আশঙ্কা ছাড়াই যোনি থেকে নির্গত একটি সাদা স্রাব। চিকিৎসার ক্ষেত্রে, সব রকমের অত্যধিক স্রাব, সাদা বা হালকা হলুদ রঙের, কিন্তু রক্ত নেই এমন ধরনকে লিউকোরিয়া বলা হয়। এক জন নারীর মাসিক চক্র পর্যায়ের উপর নির্ভর করে যোনির স্বাভাবিক স্রাব বিভিন্ন রঙের, পরিমাণের এবং ঘনত্বের হয়। লিউকোরিয়ার কোন রঙ বা গন্ধ নেই। তবে স্রাবের রঙ যদি সবুজ বা হলুদ হয় এবং সাথে লালচে ভাব থাকে এবং চুলকনি এবং দুর্গন্ধ থাকে তাহলে এগুলি প্রজনন অঙ্গের সংক্রমণের (আর-টি-আই) চিহ্ন।



লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) ৰ ডক্তৰ

Dr. Vrinda Khemani Dr. Vrinda Khemani Obstetrics & Gynaecology
6 वर्षों का अनुभव
Dr Megha Apsingekar Dr Megha Apsingekar Obstetrics & Gynaecology
4 वर्षों का अनुभव
Dr. Dyuti Navadia Dr. Dyuti Navadia Obstetrics & Gynaecology
1 वर्षों का अनुभव
Dr. Sheetal Aggarwal Dr. Sheetal Aggarwal Obstetrics & Gynaecology
15 वर्षों का अनुभव
অনেক সময় অডিও র জন্য মুহূর্তের বিলম্ভ হতে পারে

লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) জন্য ঔষধ

লিউকোরিয়া (সাদা স্রাব) के लिए बहुत दवाइयां उपलब्ध हैं। नीचे यह सारी दवाइयां दी गयी हैं। लेकिन ध्यान रहे कि डॉक्टर से सलाह किये बिना आप कृपया कोई भी दवाई न लें। बिना डॉक्टर की सलाह से दवाई लेने से आपकी सेहत को गंभीर नुक्सान हो सकता है।