myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

ভারতীয় রান্নাঘরে কিছু জিনিস আছে যার কোনও বিকল্প হয় না। কারণ, সেগুলি শুধু কিছু অসাধারণ আঞ্চলিক স্বাদের জন্য ব্যবহার হয় না, কিন্তু তাদের উপকারের পরিধি অনেক বড় এবং রান্নাঘরের সীমার মধ্যে তাকে আটকে রাখা সহজ নয়। সেরকমই একটি উদাহরণ হল ‘সরিষার তেল’। এর একটি ঝাঁঝাঁলো গন্ধ আছে এবং সে গন্ধের সঙ্গে সহজেই অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া সম্ভব। একবার ওই গন্ধের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, আপনি এর আসল স্বাদ বুঝতে পারবেন। তার নেশায় পড়ে যাবেন।

পূর্ব এবং উত্তর ভারতে, এমন বাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে সরিষার তেলের ব্যবহার নেই। মনে করা হয় এর এমন ভেষজ গুণ আছে যা দিয়ে ছত্রাকের (ফাঙ্গাল) সংক্রমণের চিকিৎসা করা হয়, তা সর্দির প্রতিকারে কাজে লাগানো হয়, চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে, শরীরের প্রতিরোধী ক্ষমতা ও ত্বকের পুষ্টি বাড়াতে, হাড় মজবুত করতে, মুখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে এবং আরও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। একটি অন্তহীন তালিকা বলতে যা বলা হয়।

সরিষার বীজকে (কালো, বাদামি বা সাদা) ঠান্ডা অবস্থায় পিষে তেল বার করা হয়, তার রঙ লালচে বাদামি বা হলুদাভ বাদামি (অ্যাম্বার) , সাধারণত উত্তর এবং পূর্ব ভারতে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, এবং নেপালে ব্যবহৃত হয়। তবে, এখন এটি ক্রমেই খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে কিছু নামীদামি রেস্তোরাঁর শেফ তাঁদের নিজেদের পদে এই তেলের ব্যবহার শুরু করেছেন। রান্নার কাজে ব্যবহার ছাড়া, সরিষার তেল স্যালাডে ব্যবহার করা হয়, শিশুদের মাসাজ অয়েল, চুলের তেল, মুখ এবং শরীরের মাখবার তেল হিসাবেও এর ব্যবহার চলছে।

সরিষার তেলের কিছু প্রাথমিক তথ্য:

  • বৈজ্ঞানিক নাম:  ব্রাসিকা জানসি
  • পরিবার: ব্রাসিসিয়াই
  • সাধারণ নাম: সরসোঁ কা তেল
  • সংস্কৃত নাম :সর্ষপতৈল
  • ব্যবহৃত অংশ: সরিষার বীজকে ঠান্ডা অবস্থায় পিষে তেল বার করা হয়।
  • আদিতে উদ্ভূত এবং ভৌগৌলিক বণ্টন: পূর্ব ভারতে, উত্তর ভারতে, বাংলাদেশ, এবং নেপালে ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে সরিষার তেল বাবহৃত হয়।
  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রান্নার কাজে ছাড়া বিভিন্ন উৎসবে এবং অনুষ্ঠানে সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়, বলা ভাল যে সরিষার তেলের সঙ্গে ভারতীয়রা তাদের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের যোগসূত্র খুঁজে পায়। পঞ্জাবে বিয়ের সময় স্ত্রী আচার পালনের সময় পাত্রের মা নববধূর শুভাগমন উপলক্ষে দরজার দু’পাশে সরিষার তেল ঢেলে দেন।
    আনন্দের উৎসব যেমন দীপাবলীর সময় মাটির প্রদীপ বা ‘দিয়া’ জ্বালানো হয় এই তেল দিয়ে।   
    ‘মাইয়া’ বা গায়ে-হলুদ জাতীয় প্রাকবিবাহ অনুষ্ঠানে পাত্র-পাত্রীর শরীরে যে লেই-এর প্রলেপ দেওয়া হয় তার অন্যতম উপকরণ হল সরিষার তেল।     
  1. সরিষার তেলের পুষ্টি - Mustard oil nutrition facts in Bengali
  2. সরিষার তেলের স্বাস্থ্যকর গুণ - Mustard oil health benefits in Bengali
  3. সরিষার তেলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Mustard oil side effects in Bengali
  4. মনে রাখতে হবে - Takeaway in Bengali

সরিষার তেলের প্রায় 60% মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (MUFA) ।  MUFA শরীরের ভাল কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে। সরিষার তেলের প্রায় 21%  পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (PUFA) । শরীরে রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দনের সঙ্গে এর একটি ইতিবাচক সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে সামান্য শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (SFA) । কিন্তু SFA কে অপেক্ষাকৃত কম স্বাস্থ্যকর বলে ধরা হয় কারণ এটি শরীরে বাজে কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করে। USDA পুষ্টি তালিকা অনুযায়ী এক টেবিল চামচ সরিষার তেলে নিম্নলিখিত পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে:

পুষ্টিকর উপাদান মূল্যমান, 1 tbsp
শক্তি 124 g
স্নেহ পদার্থ 14 g
চর্বি /ফ্যাটি অ্যাসিড মূল্যমান, 1 tbsp
স্যাচুরেটেড 1.621 g
মনোআনস্যাচুরেটেড 8.286 g
পলিআনস্যাচুরেটেড 2.972 g
  • ত্বক এবং চুলের জন্য:  আপনার ত্বক এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য সরিষার তেলের প্রচুর উপকার আছে এবং তা বহু রোগ প্রতিরোধ করে। ওমেগা 3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বক ফাটা রোধ করে। এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রক্রিয়ার জন্য দাদ (রিংওয়ার্ম) এবং ইস্টের মতো ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
  • ওজন কমাতে:  খাদ্যতালিকা সরিষার তেল সমৃদ্ধ হলে দেখা গেছে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে কারণ অ্যাডিপোজ টিস্যুতে যে চর্বি সঞ্চিত হয় তা হতে পারে না।
  • মুখের স্বাস্থ্যের জন্য: সরিষার তেল প্রদাহ কমায় এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, কাজেই জিঞ্জিভাইটিস এবং পেরিওডন্টিটিস জাতীয় মাড়ির সমস্যা কমায়।
  • হার্টের জন্য: যাঁদের হৃদরোগের সমস্যা আছে সরিষার তেল তাঁদের পক্ষে নিরাপদ, কারণ এর মধ্যে ফ্যাটি অ্যাসিডের ভারসাম্য আছে। এটি কোলেস্টেরলের হারও কমায়।
  • ক্যান্সারের বিরুদ্ধে: শরীরে ক্যান্সারের কারণে যে সমস্ত কোশের বৃদ্ধি চিরাচরিত চিকিৎসায় সাড়া দেয় না, সেগুলির বৃদ্ধিও সরিষার তেল প্রতিহত করে, কারণ তার মধ্যে সালফোরাফেন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে।
  • অন্যান্য উপকার: প্রদাহ-বিরোধী হওয়ায় সরিষার তেল পেশির ব্যাথা এবং আর্থারাইটিস কমায়। মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং টাইফয়েড প্রতিরোধে এটি সাহায্য করে।
  • একটি সমীক্ষায় প্রকাশিত যে রাজিকা প্রকারে সরিষার তেল ব্যবহার করলে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে বা প্রস্রাবের হার কমতে পারে। এই তেল চোখে ব্যবহার করলে তার ফল খারাপ হতে পারে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মতে, সরিষার তেল পিত্ত বৃদ্ধি করে। শরীরের অতিরিক্ত পিত্ত বৃদ্ধি হলে একটা জ্বালার অনুভূতি, জ্বর এবং প্রদাহ হয়।
  • কোনও কোনও ব্যক্তি সরিষার তেল ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হয়। একটি ঘটনার কথা জানা গিয়েছে যেখানে এক ব্যক্তি সরিষার তেল দিয়ে ম্যাসাজ করানোর পর তাঁর ত্বকের ক্ষতি হয়েছিল। কাজেই সরিষার তেল দিয়ে নিয়মিত ম্যাসাজ করানোর আগে ত্বকের ওপর ব্যবহার করে দেখে নিতে হবে সরিষার তেলে তাঁর ত্বকে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কিনা।

সরিষার তেলের বিভিন্ন স্বাস্থ্যোপকারিতা আছে, মূলত তার কারণ এটি মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ তেল। তেল হিসাবে হার্টের পক্ষে এটি উপযুক্ত বাছাই। নিজ্ঞানসম্মত কিছু সমীক্ষায় বলা হয়ে থাকে সরিষার তেলের উপকারিতার মধ্যে আছে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা ক্যান্সারের কোশ বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ। সরিষার জরুরি তেল চুল এবং ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সরিষার তেলে প্রদাহ-বিরোধী উপাদান আছে।

और पढ़ें ...