নিম হচ্ছে একটি ভেষজ বৃক্ষ যা 4000 বছরের বেশি ধরে ভারতে ব্যবহার হয়ে এসেছে। নিমের সমস্ত অংশ বিভিন্নভাবে উপকার করে। বাস্তবে, সংস্কৃতে নিমকে বলা হয় অরিষ্ট যার অর্থ ‘‘রোগের মুক্তিদাতা’’।

নিম গাছে প্রচুর পাতা হয় এবং নিমগাছের উচ্চতা 75 ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এটি সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান এবং প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে হয়ে থাকে। যাইহোক, এটি দক্ষিণ ইরানীয় দ্বীপেও জন্মায়। উজ্জ্বল ঝাঁকড়া সবুজ পাতা বোঝাই গাছগুলি ভারতের রাস্তার পাশে খাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, উন্নতশীল দেশের প্রায় 80% অধিবাসী চিরাচরিত চিকিৎসায় ভরসা করে থাকে, যার মধ্যে আছে উদ্ভিদ এবং উদ্ভিজ্জাত পণ্য। নিম হচ্ছে এমন একটি বৃক্ষ যা ত্বকের সংক্রমণ, সেপটিক ক্ষত, সংক্রমিত পুড়ে যাওয়া ক্ষত এবং কিছু ফাঙ্গাল সংক্রমণ যা মানুষের শরীরকে ব্যতিব্যস্ত করে, এবং এ জাতীয় বিভিন্ন উপসর্গ প্রতিরোধ করে। নিম তেল থেকে বিভিন্ন ধরনের সাবান এবং শ্যাম্পু প্রস্তুত করা হয়। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে নিম পাতা প্রকৃতই কার্যকরী হয়, যক্কৃতের কার্যকারিতার উন্নতি করে এবং রক্তে শর্করার অনুপাত ভারসাম্য বজায় রাখে। যাঁরা জলবসন্তে ভুগছেন তাঁরা নিম পাতা-সহ ঈষদুষ্ণ গরম জলে স্নান করলে উপকার হয়। বেদে নিমকে বলা হয়েছে, ‘‘সর্ব রোগ নিবারণী’’, অর্থাৎ ‘‘সমস্ত উপসর্গের প্রশমণকারী’’।  

আপনি শুনে আগ্রহী হবেন যে নিম শুধুমাত্র কোনও ভারতীয় বিস্ময় নয়। আফ্রিকাতেও এটি সুপরিচিত, যেখানে এটির জনপ্রিয় নাম হলো ‘‘মহোরবাণী’’। আফ্রিকার অধিবাসীরা বিশ্বাস করেন নিম অন্তত চল্লিশটি জটিল এবং সাধারণ রোগ নিরাময় করে।

নিম শুধু মাত্র কোনও ভেষজ বিস্ময় নয়, রন্ধনশিল্পেও এর বিশেষ অবদান আছে। বিভিন্ন রান্না এবং পদের জন্য এটি সেদ্ধ বা ভেজে ব্যবহার করা হয়। মায়ানমারে নিম পাতা স্যালাডে ব্যবহার করা হয়। আর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যদি নিম পাতা ফ্রিজে রাখা হয় তাহলে কয়েক মাস ধরে তাজা থাকে। কী করে এই তেঁতো ভেষজকে সুস্বাদু করা যেতে পারে?

 নিম সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক তথ্য:

  • বৈজ্ঞানিক নাম: অ্যাজাডিরাকটা ইন্ডিকা
  • পরিবার: মেলিয়েসিই
  • সংস্কৃত নাম: নিম্ব বা অরিষ্ট
  • ব্যবহৃত অংশ: নিমের প্রায় সমস্ত অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে-  বীজ, পাতা, ফল, ফুল, তেল, মূল এবং কাণ্ড।   the seeds, leaves, fruits, flowers, oil, roots and the bark.
  • উদ্ভাবন স্থান এবং ভৌগৌলিক বণ্টন: নিম গাছ মূলত চাষ করা হয় ভারতীয় উপমহাদেশের ভারত, নেপাল, মলদ্বীপ, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে।
  • ব্যবহার:  নিম গাছের প্রচুর ভেষজ গুণ আছে। কুষ্ঠ, চোখের সমস্যা, পাকস্থলীতে কৃমি, পেটের গণ্ডগোল, ত্বকের ক্ষত এবং রক্তনালী, জ্বর, ডায়বিটিস এবং যক্কৃতের সমস্যায় নিম পাতা ব্যবহার করা হয়। নিমের তেল কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাতেও কার্যকরী হয়।
  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মানুষের বিশ্বাস, যদি কেউ জীবনকালে তিনটি বা তার বেশি নিম গাছ রোপন করেন তাহলে তাঁর স্বর্গবাস হবে।
  1. নিমের পুষ্টির তথ্য - Neem nutrition facts in Bengali
  2. নিমের প্রামাণ্য স্বাস্থ্যোপকারিতা - Neem health benefits in Bengali
  3. নিমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Neem side effects in Bengali
  4. মনে রাখতে হবে - Takeaway in Bengali

ফ্ল্যাভোনয়েড-এর উৎকৃষ্ট উৎস হচ্ছে নিম পাতা, যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর মধ্যে আছে অ্যাজাডিরাকটিন, যা একটি প্রাকৃতিক কীটনাশক। নিমের অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, বিভিন্ন আকরিক যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন সি এবং ক্যারোটিন। এছাড়া এটি গ্লুট্যামিক অ্যাসিড, প্র‌্যালাইন এবং অন্যান্য ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ।

নিমফুলের মধ্যে পাওয়া যায় বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড যেমন গ্লুট্যামিক অ্যাসিড, টাইরোসাইন, এবং মেথিওনাইন।

বীজের বিশেষ ভূমিকা আছে কারণ সেগুলিতে উচ্চ মাত্রায় লিপিড আছে এবং তিক্ত উপাদান আছে যা কীটনাশক হিসাবে 200-র বেশি প্রজাতির কীটের ওপর প্রয়োগ করা চলে এবং সবচেয়ে বড় কথা, সেগুলি মানুষের পক্ষে বিষাক্ত নয়।

  • ত্বক এবং চুলের জন্য: নিম হচ্ছে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খাদ্য, যার জন্য এটি চুল এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ত্বকের অসুখের হাত থেকে এটি রক্ষা করে এবং এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়্যাল উপাদান ব্রণ আটকাতে পারে এবং ক্ষতের আকার কমাতে সাহায্য করে। চুলের জন্য এর উপকার সর্বজনবিদিত কারণ এটি মাথায় উকুন মারবার কাজে এবং খুস্কি এবং মাথার খুলির চামড়ায় চুলকানির চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
  • প্রতিরোধের জন্য :  সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিম প্রতিরোধী ক্ষমতার উন্নতি করে এব্ং আপনার শরীরকে বহুবিধ ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস এবং অন্যান্য বহিঃশত্রুর হাত থেকে বাঁচায়।
  • মুখ এবং পাকস্থলীর জন্য: মুখের বহুবিধ সমস্যা যেমন দাঁতের ক্ষয়, প্লাক জমে যাওয়া, মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে নিম। পেটের ঘা বা আলসারের সমস্যা সামলাতেও সাহায্য করে।
  • হার্টের জন্য: হার্টে রক্ত সংবহণে উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে নিম পাতা এবং সেই কারণে হৃদরোগ এবং অ্যারিথমিয়ার সম্ভাবনা কমে।
  • ক্যান্সার বিরোধী: এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্যান্সাররোধী প্রক্রিয়ায়, বিশেষত অগ্ন্যাশয়ে (প্যাংক্রিয়াসে) , কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
  • শ্বাসের জন্য: শ্বাসের সমস্যায়, বিশেষত কাশি, অ্যাজমা এবং সর্দি বসে গেলে, নিম সাহায্য করে।

ক্ষতের নিরাময়ে নিম - Neem for healing wounds in Bengali

আপনি যদি আহত হন তাহলে ক্ষতের নিরাময় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন ত্বক এবং টিস্যু নিজেরাই নিজেদের ঠিক করে নেয়। নেশ কিছু সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে, নিম হচ্ছে একটি কার্যকরী প্রাকৃতিক ক্ষত প্রশমণকারী। নিম পাতায় আছে নিম্বিডিন, এবং সোডিয়াম নিম্বিডেট জাতীয় প্রদাহবিরোধী, ফাঙ্গাসবিরোধী এবং ভাইরালবিরোধী যৌগের উপাদানসমূহ। এগুলি শুধুমাত্র যন্ত্রণা এবং ফোলা কমায় না কিন্তু জখম এলাকায় সংক্রমণ নতুন করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আটকায়।

ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিসেপটিক প্রোভাইডোন-আইয়োডিনের সঙ্গে নিমের কার্যকারিতার তুলনা করার জন্য একটি প্রিক্লিনিক্যাল সমীক্ষা করা হয়েছিল। নিম পাতার নির্যাস দিয়ে ক্ষতটির চিকিৎসা করে দেখা গিয়েছিল ক্ষতটির আকার রীতিমতো কমে গিয়েছিল যা প্রোভাইডোন-আইয়োডিন দিয়ে চিকিৎসার সঙ্গে তুলনীয়।

একটি ক্লিনিক্যাল সমীক্ষায় 60 জন রোগীর দেহে  8 সপ্তাহ ধরে নিমের তেল খোলা ক্ষতের ওপর লাগানো হয়েছিল। প্রায় 8 সপ্তাহ পর, ক্ষতের আকার 50% কমেছে বলে দাবি করা হয়।

চুলের উপকারের জন্য নিম - Neem benefits for hair in Bengali

চুলকে তাজা এবং রেশমের মতো মোলায়েম রাখতে চুলের উপযুক্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এটাও দেখতে হবে যে আপনার চুল যেন খুস্কি মুক্ত থাকে এবং মাথায় উকুন না হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই সমস্যাগুলি রুখতে নিম কার্যকরী হয়। একটি ক্লিনিক্যাল সমীক্ষা করা হয়েছিল যেখানে 28 জন রোগীকে অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে নিম, শিকাকাই এবং রিঠার মিশ্রণ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়য়েছিল। সমীক্ষার ফলে পাওয়া যায় এই মিশ্রণ মাথার ত্বকে চুলকানি এবং খুস্কি প্রতিরোধে কার্যকরী হয়েছিল। এটিকে নিমের তেল, নিম পাতা, এবং ওই মিশ্রণে অন্যান্য মিশ্রিত উপাদানের ফাঙ্গাস বিরোধী গুণের প্রকাশ বলে ধরা হয়েছে।

স্কুল পড়ুয়া, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে মাথার উকুন একটি সাধারণ সমস্যা। শ্যাম্পুর মধ্যে নিমকে প্রধান উপাদান করে ব্যবহার করলে তা মাথার উকুন বিনাশে সক্ষম হয় কিনা দেখার জন্য একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। সমীক্ষার পর দেখা যায় রাসায়নিক উপাদান সমৃদ্ধ শ্যাম্পুর তুলনায় নিম সমৃদ্ধ শাম্পু বেশি কার্যকরী।

প্রতিরোধী ক্ষমতার জন্য নিম - Neem for immune system in Bengali

প্রতিরোধী প্রক্রিয়া হলো শরীরের প্রধান সুরক্ষা কবচ। এটি বিভিন্ন ব্যাকটিরিয়া, ফাঙ্গাস, ভাইরাস এবং অন্যান্য বহিঃশত্রুর হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে মানুষ প্রায়শই সংক্রমণ এবং রোগের শিকার হয়। গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিম মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

একটি প্রিক্লিনিক্যাল সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিমের নির্যাস ইতিবাচকভাবে মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে, লিম্ফোসাইট এবং মনোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়। উভয়েই এক ধরনের শ্বেতকণিকা যেগুলি সংক্রামক মাইক্রোবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দায়ী।

(আরও পড়ুন: ইমিউনিটি বুস্টার ফুড)

ত্বকের উপকারে নিম - Neem benefits for skin in Bengali

ক্ষতিকর দূষিত পদার্থ এবং সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে আমাদের ত্বকের নিরবচ্ছিন্ন যত্নের প্রয়োজন। অনুপযুক্ত ত্বকের স্বাস্থ্যের কারণে বিভিন্ন রকম সমস্যা যেমন র‌্যাশ, ব্রণ, অ্যালার্জি এবং সোরাইসিস-এর আক্রমণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিমের মধ্যে এমন কিছু উপাদান সক্রিয় আছে যা ত্বককে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।

একটি গবেষণায় ইঙ্গিত করা হয়েছে, যেমন প্রোপিওনিব্যাকটিরিয়াম অ্যাকনি জাতীয় ব্যাকটিরিয়া যা থেকে ব্রণ হয় তার হাত থেকে নিমের তেল রক্ষা করে। নিমের মধ্যে যে সব উপাদান আছে তার মধ্যে অন্যতম ডিটারপিনস-স্টিগম্যাস্টেরল, ট্রাইটারপেনস, নিম্বিডিন, মার্গোলাইন এবং মার্গোলোলোন। এই সক্রিয় উপাদানগুলি নিমের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়্যাল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাবলীর জন্য দায়ী।

অ্যাজমার জন্য নিম - Neem for asthma in Bengali

অ্যাজমা হচ্ছে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা যার দরুন শ্বাসনালী সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে বলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। এই অবস্থায় বুক ঘড়ঘড় করে এবং কাশি হয়। একাধিক সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে অ্যাজমা প্রতিরোধ করতে নিম সাহায্য করে। ফলিত বিজ্ঞান প্রযুক্তির (অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলজি) আন্তর্জাতিক আর্কাইভ একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হয়েছে নিমের তেল এবং নিম পাতা অ্যাজমার চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে এবং কাশি এবং কফ রোধ করতে পারে।.

অন্য একটি সমীক্ষায় প্রকাশিত, নিমের বীজ, ফল, মূল এবং কাণ্ড অ্যাজমার চিকিৎসায় কার্যকর হয় এবং আয়ুর্বেদ এবং অন্যান্য চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতিতে যুগ যুগ ধরে তাদের ব্যবহার চলছে। আরও বলা হয়েছে যে নিমের অ্যালার্জিরোধী যে গুণ রয়েছে তার জন্যই এটি অ্যাজমার চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে।

হার্টের উপকারের জন্য নিম - Neem benefits for heart in Bengali

গবেষণায় ইঙ্গিত করা হয়েছে, হৃদযন্ত্রের সমস্যায় যেমন হৃদরোগ বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ এবং অ্যারিথমিয়ার (অস্বাভাবিক হৃদকম্পন) চিকিৎসার জন্য নিমের ব্যবহার চলতে পারে। করোনারি আর্টিরি ডিজিজ হচ্ছে সবচেয়ে সাধারণ হৃদরোগ। হার্টে রক্ত সঞ্চালন কম হলে এই হৃদরোগ হয়ে থাকে। এর থেকে বুকে ব্যাথা এবং শ্বাসের কষ্ট হতে পারে।  

একটি প্রিক্লিনিক্যাল সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে নিম পাতার নির্যাস হার্টে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এই নির্যাস হৃৎস্পন্দনের (নেতিবাচক ইনোট্রপিক এফেক্ট) উচ্চ হার, এবং হৃৎস্পন্দনের (নেতিবাচক ক্রোনোট্রপিক এফেক্ট) হার কমাতে সাহায্য করে।

 (আরও পড়ুন: হার্ট ডিজিজ প্রিভেনশন)

নিমের ক্যান্সার বিরোধী উপাদান - Neem anti-cancer properties in Bengali

শরীরের কোশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে ক্যান্সার হয়। পরিবেশ দূষণের জটিলতা থেকে ভেজাল খাদ্য, এরকম বিবিধ কারণের জন্য ক্যান্সারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রিক্লিনিক্যাল সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, নিমের মধ্যে মূখ্য উপাদান হিসাবে মজুত রয়েছে নিম্বোলাইড, যার মধ্যে ক্যান্সার বিরোধী এবং কেমো প্রতিরোধী গুণাবলী রয়েছে। নিম্বোলাইড ক্যান্সার কোশের যে চক্র তা প্রতিরোধ করে বলে তাদের বৃদ্ধি প্রতিহত হয় এবং সেগুলি ছড়াতে পারে না। নিম্বোলাইড-এর কারণে ক্যান্সার কোশের অ্যাপোপটসিস (নির্দিষ্টভাবেকোশের মৃত্যু) হয়।

অপর একটি গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে, নিমের মধ্যে উপস্থিত নিম্বোলাইড প্যাংক্রিয়াটিক ক্যান্সার কোশের বৃদ্ধি এবং বিস্তার প্রতিহত করে।.

ক্যান্সার বিরোধী ওষুধ প্রস্তুতে নিমের কার্যকরিতার পরিচায়ক হচ্ছে এই সুফলগুলি।

গর্ভনিরোধক হিসাবে নিম - Neem as contraceptive in Bengali

অনাকাঙ্খিত গর্ভসঞ্চার রুখতে গর্ভনিরোধক ব্যবহার একটি উৎকৃষ্ট পন্থা। কিন্তু বহু দেশে গর্ভনিরোধকের উপায় না থাকায় এবং তা সুলভ না হওয়ায় তা ব্যবহারে অনীহা দেখা যায়, ফলে অনাকাঙ্খিত গর্ভসঞ্চার বাড়ে এবং বিপজ্জনক গর্ভপাতের সংখ্যা বাড়ে। প্রিক্লিনিক্যাল সমীক্ষায় জানা যায়, জরায়ুর অভ্যন্তরে নিমের তেল ব্যবহার লাগানো হলে গর্ভসঞ্চারের বিপরীত ফল হয়। বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে পরীক্ষা করার পর তাদের মধ্যে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং দেখা গিয়েছে, তাদের উর্বরতা কিছু মাসের মধ্যে ফিরে এসেছে।

আর একটি ইন-ভিভো (প্রাণীদের মধ্যে পরীক্ষা) সমীক্ষায় প্রকাশিত, স্ত্রীযোনিতে নিমের তেলের প্রলেপ দেওয়া হলে সেকেন্ডের মধ্যে শুক্রাণুগুলি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

এই সমস্ত উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, নিম এমন একটি গর্ভনিরোধক হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে যা অর্থের দিক থেকে সাশ্রয়ী এবং যার কোনও টক্সিক বা বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া নেই, যাঁরা আর্থিক কারণে বহুমূল্য গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতে পারেন না তাঁদের জন্য এটি আদর্শ বিকল্প হতে পারে।

 (আরও পড়ুন: বার্থ কন্ট্রোল মেথড (জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি)

পরিপাক ক্রিয়ার উপকারের জন্য নিম - Neem benefits for digestive system in Bengali

অন্ত্রের বিপাকীয় সমস্যা (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল) এমন এক অবস্থা যখন খাদ্যনালী, ক্ষুদ্রান্ত এবং বৃহদান্ত্র এবং পাকস্থলী আক্রান্ত হয়। এই অবস্থার সাধারণ উপসর্গগুলি হল পেট ব্যাথা (অ্যাবডোমিন্যাল পেন), আন্ত্রিক, বায়ু এবং বমি। গবেষণায় প্রমাণিত যে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যা যেম আলসার বা অতিরিক্ত অজীর্ণতা (অ্যাসিডিটি) রুখতে নিম খুব কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে। ইন ভিভো (প্রাণীদের মধ্যে পরীক্ষা) সমীক্ষায় দেখা হিয়েছে, নিমের নির্যাস বা ক্কাথ ব্যবহার করলে পাকস্থলীতে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু (স্টমাক আলসার) পুনর্বার জন্মায়।

ফাইটোথেরাপি রিসার্চ-এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে, নিম হচ্ছে উৎকৃষ্ট গ্যাস্ট্রোপ্রোটেক্টিভ (পাকস্থলী রক্ষা করে) , এবং আলসাররোধী এজেন্ট।

একটি ক্লিনিক্যাল সমীক্ষায় কয়েকজন অন্ত্রের বিপাকীয় সমস্যায় (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল) ভুগতে থাকা রোগীকে 10 সপ্তাহ ধরে দিনে দু’বার 30 থেকে 50 গ্রাম নিমের নির্যাস দেওয়া হয়েছিল। গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং গ্যাস্ট্রিক জুসের অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

 (আরও পড়ুন: হাও টু ইমপ্রুভ ডাইজেশন (কীকরে পরিপাক ক্ষমতা বাড়াবেন) )

দাঁতের ক্ষয় রোধে নিম - Neem for tooth decay problems in Bengali

দাঁতের ক্ষয় বা দাঁতে গর্ত  হয়ে যাওয়ার অর্থ ব্যকটিরিয়া থেকে অ্যাসিড নিঃসরণের জন্য দাঁতের গঠন ভেঙে যাওয়া। চিকিৎসা না করা হলে দাঁতের মধ্যে গর্ত সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ায় এবং তা মাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিমের ব্যাকটিরিয়া বিরোধী উপাদান দাঁতের ক্ষয় রুখতে পারে এবং প্যাথোজেনের হাত থেকে মাড়ি এবং দাঁত রক্ষা করতে পারে। পাতার নির্যাস হিসাবে পাওয়া এথানোলিক এবং নিমের শাখায় এমন ব্যাকটিরিয়া বিরোধী গুণাবলী লক্ষ্য করা গিয়েছে যা মুখের প্যাথোজেন যেমন S.মিউট্যান এবং S. ফেকালিসের বিরুদ্ধে কাজ করে।  

নিমের মধ্যে ব্যাকটিরিয়া বিরোধী এমন কার্যকারিতাও লক্ষ্য করা গিয়েছে যা দাঁতে প্লাক, দাঁতের ওপর ব্যাকটিরিয়ার পাতলা আচ্ছাদন, জমা হওয়া বন্ধ করে।

নিম থেকে প্রস্তুত টুথপেস্ট বা নিমের মাউথওয়াশ জিঞ্জিভাইটিস - একটি রোগ যার জন্য মাড়ি ফোলে-প্রতিরোধে সাহায্য করে। জৈব বা বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ যেমন নিম্বিডিন এবং অ্যাজারডিরাক্টিনের উপস্থিতির কারণে নিমের ব্যাকটিরিয়া বিরোধী গুণাবলীর পাওয়া যায়।

  • গবেষণায় প্রকাশিত, অতিরিক্ত পরিমাণে নিমের নির্যাস গলাঃধকরণ করলে যক্কৃত (লিভার) বা বৃক্ক (কিডনি) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিমের নির্যাস গ্রহণের জন্য একজন  51 বছর বয়স্ক ব্যক্তি ডিস্ট্যাল রেনাল টিউবিউলার অ্যাসিডোসিস (ডিস্টাল RTA) এ আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এটি এমন একটি অবস্থা যখন বৃক্ক থেকে মুত্রে অ্যাসিড নিঃসরণ হয় না বলে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে অ্যাসিড (আম্লিক) রয়ে যায়। যদি চিকিৎসা না করা হয় তাহলে কিডনিতে পাথর হতে পারে এবং কিডনি খারাপ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
  • বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিমের বিষক্রিয়া সাধারণত দেখা যায় না, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিষক্রিয়ার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, নিমের একটি সক্রিয় উপাদান, অ্যাজারডির‌্যাকটিন বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। সাধারণ উপসর্গের মধ্যে থাকে বমি পাওয়া, খিঁচুনি, টক্সিক এনসেফ্যালোপ্যাথি (একটি স্নায়বিক সমস্যা) , মেটাবলিক অ্যসিডোসিস (এমন অবস্থা যখন কিডনি শরীর থেকে অ্যাসিড অপসারণে ব্যর্থ হয়) এবং ওষুধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যক্কৃত (হেপাটিক টক্সিসিটি) ।  
  • নিমের তেলের মধ্যে ব্যাকটিরিয়া বিরোধী এবং ফাঙ্গাস বিরোধী উপাদান থাকে ঠিকই তবে কখনও কখনও তা ব্যবহারে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। যদিও এ ধরনের ঘটনা বেশি জানা যায় না তবু কিছু ব্যক্তি নিমের তেল ব্যবহার করলে অ্যালার্জির শিকার হতে পারেন।
Planet Ayurveda Neem Capsule
₹1215  ₹1350  10% OFF
BUY NOW

নিম গাছের প্রায় সমস্ত অংশের প্রশমণের ক্ষমতা আছে। অন্ত্রের বিপাকীয় সমস্যা (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল) প্রতিরোধে নিম বিশেষ কার্যকরী হয়, রোগের হাত থেকে দাঁত এবং মাড়ি বাঁচায়, এবং ক্যান্সার বৃদ্ধি রোধ করে। নিমপাতা অ্যাজমা প্রতিরোধ করে এবং নিমের তেল সাশ্রয়ী গর্ভনিরোধক হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, নিমের অতিরিক্ত ব্যবহারে কিডনি এবং লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারোর কারোর ক্ষেত্রে নিমের কারণে অ্যালার্জি হতে পারে।

নিমের পরিমিত ব্যবহারে সার্বিক স্বাস্থ্যের উপকার হয় এবং তা শরীরকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচায়।


Medicines / Products that contain Neem

তথ্যসূত্র

  1. Anjali Singh, Anil Kumar Singh, G. Narayan, Teja B. Singh, Vijay Kumar Shukla. Effect of Neem oil and Haridra on non-healing wounds. Ayu. 2014 Oct-Dec; 35(4): 398–403. PMID: 26195902
  2. Heukelbach J, Oliveira FA, Speare R. A new shampoo based on neem (Azadirachta indica) is highly effective against head lice in vitro. Parasitol Res. 2006 Sep;99(4):353-6. Epub 2006 Mar 28. PMID: 16568334
  3. Beuth J, Schneider H, Ko HL. Enhancement of immune responses to neem leaf extract (Azadirachta indica) correlates with antineoplastic activity in BALB/c-mice. In Vivo. 2006 Mar-Apr;20(2):247-51. PMID: 16634526
  4. Dr. Farhat S. Daud et al. A Study of Antibacterial Effect of Some Selected Essential Oils and Medicinal Herbs Against Acne Causing Bacteria. International Journal of Pharmaceutical Science Invention, Volume 2 Issue 1 ‖‖ January 2013 ‖‖ PP.27-34
  5. Khosla P, Gupta A, Singh J. A study of cardiovascular effects of Azadirachta indica (neem) on isolated perfused heart preparations. Indian J Physiol Pharmacol. 2002 Apr;46(2):241-4. PMID: 12500501
  6. Lingzhi Wang et al. Anticancer properties of nimbolide and pharmacokinetic considerations to accelerate its development Oncotarget. 2016 Jul 12; 7(28): 44790–44802. PMID: 27027349
  7. Subramani R et al. Nimbolide inhibits pancreatic cancer growth and metastasis through ROS-mediated apoptosis and inhibition of epithelial-to-mesenchymal transition. Sci Rep. 2016 Jan 25;6:19819. PMID: 26804739
  8. National Research Council (US) Panel on Neem. Neem: A Tree For Solving Global Problems. Washington (DC): National Academies Press (US); 1992. APPENDIX B, BREAKTHROUGHS IN POPULATION CONTROL? .
  9. Maity P, Biswas K, Chattopadhyay I, Banerjee RK, Bandyopadhyay U. The use of neem for controlling gastric hyperacidity and ulcer. Phytother Res. 2009 Jun;23(6):747-55. PMID: 19140119
  10. Bandyopadhyay U. Clinical studies on the effect of Neem (Azadirachta indica) bark extract on gastric secretion and gastroduodenal ulcer. Life Sci. 2004 Oct 29;75(24):2867-78. PMID: 15454339
  11. David A. Ofusori, Benedict A. Falana, Adebimpe E. Ofusori, Ezekiel A. Caxton-Martins. Regenerative Potential of Aqueous Extract of Neem Azadirachta indica on the Stomach and Ileum Following Ethanol-induced Mucosa Lesion in Adult Wistar Rats. Gastroenterology Res. 2010 Apr; 3(2): 86–90. PMID: 27956991
  12. T. Lakshmi, Vidya Krishnan, R Rajendran, N. Madhusudhanan. Azadirachta indica: A herbal panacea in dentistry – An update. Pharmacogn Rev. 2015 Jan-Jun; 9(17): 41–44. PMID: 26009692
  13. Ajay Mishra, Nikhil Dave. Neem oil poisoning: Case report of an adult with toxic encephalopathy. Indian J Crit Care Med. 2013 Sep-Oct; 17(5): 321–322. PMID: 24339648
  14. de Groot A, Jagtman BA, Woutersen M. Contact Allergy to Neem Oil. Dermatitis. 2017 Nov/Dec;28(6):360-362. PMID: 29059091
Read on app