myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

আসাফাটিডা, সাধারণত ভারতে যা হিং নামে পরিচিত, হল ফেরুলা আসাফাটিডা নামক গাছড়া এবং তার ভিন্ন ধরণের প্রজাতির শিকড় থেকে নিষ্কাশিত হওয়া এক ধরণের আঠা জাতীয় বস্তু। এই গাছড়াটি প্রধানত পাওয়া যায় পূর্ব এবং মধ্য এশিয়ার ভূমধ্য অঞ্চলে। আসাফাটিডা খুবই গণ্য করা হয় তার ঔষধিগুণের জন্য, বিশেষত হজমে সাহায্যের জন্য। 

আয়ুর্বেদে আসাফাটিডা একটি রেচক (হজমে সাহায্য করে) হিসেবে বর্ণিত এবং একটি বায়ুপ্রকোপকারী (গ্যাস বের করে দিতে সাহায্য করে এবং স্থুলতা কমায়) হিসেবেও।

170 ধরণের ফেরুলা হয়, যার মধ্যে তিনটি ধরণ ভারতে ফলানো হয়, প্রধানত কাশ্মীর এবং পাঞ্জাব রাজ্যে। এটি আপিয়াসি পরিবারের সদস্য এবং এটি হল একটি গাছড়া যেটি বহুবর্ষজীবী (দু’বছরের বেশি বেঁচে থাকে) এবং সাধারণত 4 মিটার উচ্চতা অবধি গজায়। গাছের কাণ্ডটি হয় ফাঁপা এবং সরস (জল ধরে রাখে) । ফুলগুলি সাধারণত হলুদ রঙের হয়। শিকড় এবং মৌলকাণ্ড (শিকড়ের অনুভূমিক ভর) হল এই গাছড়ার সবচেয়ে মূল্যবান অংশ যেখান থেকে ‘ওলেওরেসিন’ নামক আঠা সংগ্রহ করা হয়। এই আঠা শুকিয়ে আসাফাটিডা বা হিং তৈরি করা হয়।   

আসাফাটিডার (হিং) ব্যপারে কিছু মৌলিক তথ্যঃ

  • বোটানিকাল নামঃ ফেরুলা আসাফাটিডা
  • পরিবারঃ আপিয়াসি
  • প্রচলিত নামঃ হিং, হিঙ্গার, কায়াম, ইয়াং, হেঙ্গু, রিউঙ্গায়াম, ইঙ্গুভা, ইঙ্গুমো
  • সংস্কৃত নামঃ বাধিকা, আগুদাগান্ধু
  • ব্যবহৃত অংশঃ শিকড় এবং মৌলকাণ্ডের শুকান আঠা
  • স্থানীয় অঞ্চল এবং ভৌগলিক বণ্টনঃ পূর্ব এবং মধ্য এশিয়ার ভূমধ্য অঞ্চল।
  1. হিং ব্যবহার এবং উপকারিতা - Asafoetida (hing) uses and benefits in Bengali
  2. হিং পাউডার - Asafoetida (hing) powder in Bengali
  3. হিং ডোজ - Asafoetida (hing) dosage in Bengali
  4. হিং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Side effects of asafoetida (hing) in Bengali

হিং ইতিহাস ফিরে যায় রোমান সাম্রাজ্যে। আজও হিং ব্যপকভাবে ব্যবহার করা হয় ঝোল এবং আচারকে সুস্বাদু করার প্রতিনিধি হিসেবে। হিং থেকে উদ্ভুত উপকারিতা একে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে অন্যতম উপকরণ বানায়। আসুন দেখে নেওয়া যাক হিং কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা।

  • হজম উন্নত করেঃ হিং আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যবহার করা হয় এর হজমের উপকারিতার জন্য। এর একটি পুনঃস্থাপন করার প্রভাব রয়েছে পাকস্থলীর pH-এর ওপর এবং এটি হজমকারী রসের ক্রিয়া উন্নত করে। এটি পাকস্থলীর গ্যাস এবং স্থুলতাও কমায়।
  • স্মৃতিশক্তি উন্নত করেঃ হিং একটি দুর্দান্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেটি আসিটিলকোলিনের ভাঙন আটকায়। আসিটিলকোলিন হল একটি রাসায়নিক যেটি মস্তিষ্কের সংকেত আদানপ্রদানের জন্য দায়ী। এটি স্মৃতি সংরক্ষিত রাখে এবং চেতনা (শেখার ক্ষমতা) উন্নত করে।
  • ওজন কমায়ঃ হিং চর্বির জমাট বাঁধা কমিয়ে ওজন কমানো উন্নীত করে। এটি হজম এবং পরিপাক উন্নত করে যার ফলে অতিরিক্ত ওজন কমে তাড়াতাড়ি।
  • রক্তচাপ কমায়ঃ ক্লিনিকাল গবেষণা প্রস্তাবিত করে যে হিং উচ্চ রক্তচাপ সম্পন্ন ব্যক্তিদের রক্তচাপ কমানোয় কার্যকর। এটি প্রধানত যুক্ত করা যায় এর ভ্যাসোরিলাক্সান্ট বৈশিষ্ট্যের (রক্তনালী শিথিল করে) জন্য যেটি হিং সক্রিয় উপাদানগুলিতে পাওয়া যায়।
  • বৃক্কের ক্রিয়া উন্নত করেঃ প্রথাগত চিকিৎসায় হিং পরিচিত মূত্রবর্ধক হিসেবে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ার দরুন, এটি বৃক্কের ক্ষয় আটকায় এবং বৃক্কের কার্যকারিতা উন্নীত করে।
  • প্রাকৃতিক জীবাণু-বিরোধীঃ হিং একটি শক্তিশালী জীবাণু-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন সংক্রমণ আটকাতে। হিং অপরিহার্য তেলকে সবচেয়ে সাধারন প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বৃদ্ধি আটকাতে দেখা গেছে। এটি আচার এবং কৃত্রিম খাবারে সংরক্ষকের কাজ করে।      

বাজারে উপলব্ধ হিং বেশিরভাগ পাওয়া যায় পাউডার বা ট্যাবলেটের আকারে। যেই দুই ধরণের হিং ব্যবহার করা হয় হিং পাউডার তৈরি করার জন্য তা হল লাল হিং (লাল আসাফাটিডা) এবং কাবুলি সাদা হিং (সাদা আসাফাটিডা) । সাদা আসাফাটিডা জলে দ্রবণীয় এবং লাল আসাফাটিডা তেলে দ্রবণীয়।

আসাফাটিডার একটি কড়া কটুগন্ধ রয়েছে এতে সালফার যৌগ থাকার দরুন এবং স্বাদে তিক্ত এবং আম্লিক। লোকজন বিশুদ্ধ হিং ব্যবহার করেন না এর কড়া স্বাদের জন্য। সেই কারণে হিং পাউডার তৈরি করা হয় আঠা এবং মাড় ব্যবহার করে।

হিং ভারতে সবচেয়ে সহজলভ্য পাউডারের আকারে। হিং ঔষধীয় ডোজ যেটি সাধারণত সুপারিশ করা হয় তা হল প্রায় 125-500মিগ্রা। যদিও সঠিক ডোজ একজন ব্যক্তির ওজন, বয়েস এবং দেহতত্ত্ব অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সেহেতু ঔষধীয় কারণে আসাফাটিডার ব্যবহারের আগে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আসাফাটিডা সাধারণত নিরাপদ যখন এর পরিমাণ খাওয়ারে ব্যবহৃত অংশের সমান হয়। যদিও হিং ঔষধীয় ব্যবহার কিছু লোকের মধ্যে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হিং ব্যবহারের কারণে যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে তা নিম্নলিখিত অংশে আলোচনা করা হয়েছে।

  • আসাফাটিডার বর্ধিত সেবনের কারণে কিছু লোকের ঠোঁটে ফোলাভাব আসতে পারে। এই অবস্থা সাধারণত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়না এবং কিছু ঘণ্টা পরই অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু এই অবস্থা যদি স্থায়ী হয়, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। 
  • যদিও আসাফাটিডা ব্যবহৃত হয় একটি বায়ুপ্রকোপকারী (গ্যাস বের করে দেয়) হিসেবে, কিছু লোকের ক্ষেত্রে খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে হিং ব্যবহারের ফলে তাদের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং একটি জ্বলনের অনুভবের সাথে বমিভাব তৈরি হতে পারে। সেহেতু এমন খাবার যাতে ভারি পরিমাণে হিং রয়েছে, তা খাওয়ার আগে হালকা খাবার খেয়ে নেওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়।
  • আসাফাটিডার আরেকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল এটির সেবনের ফলে কিছু লোকের ত্বকে লাল ফুসকুড়ি এবং ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। যদি ফলাভাব স্থায়ী হয়, তৎক্ষণাৎ আপনার কোন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিৎ।
  • আসাফাটিডার অতিরিক্ত সেবনের ফলে কিছু লোকের মধ্যে ঝিমুনি বা মাথা ব্যথা অনুভুত হতে পারে।
  • আসাফাটিডা প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ কমানোর এবং রক্ত পাতলা করার প্রতিনিধি। এই প্রভাবের কারণে রক্তের এবং সেই সম্পর্কিত সমস্যায় আক্রান্ত রুগীদের রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের জন্য যারা ওষুধ খাচ্ছেন, তারা হিং সেবন করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করে নেওয়া উচিৎ কারণ হিং ওষুধের সাথে এটিকে প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে দেখা গেছে।
  • গর্ভবতী মহিলাদের তাদের খাদ্যাভ্যাসে হিং না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ এর ফলে গর্ভপাত হতে পারে। সন্তানপ্রসবা মায়েদের আসাফাটিডা এড়িয়ে চলা উচিৎ কারণ এটি মায়ের বুকের দুধ মারফৎ বাচ্ছার শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্ত-সংক্রান্ত সমস্যা খাঁড়া করে।
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত বা খিঁচ ধরা সংক্রান্ত সমস্যার ভুক্তভুগি বা পক্ষাঘাতের রুগীদের হিং এড়িয়ে চলা উচিৎ। যদি সেবন করা হয়, তাহলে এই সকল রুগীদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
और पढ़ें ...