myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

ট্রিবিউলাস টেরেস্ট্রিস, সাধারণত গোক্ষুরা নামে পরিচিত, একটি বার্ষিক ঔষধি যা সারা বিশ্বে পাওয়া যায়। গোক্ষুরা একটি সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ “গরুর ক্ষুর”। মাঠে চরবার সময় গরুর ক্ষুরে এই ছোট কাঁটাযুক্ত ফল আটকে যায়, তাই বোধহয় এর এই নামকরণ হয়েছে। গোক্ষুর গাছ অত্যন্ত চরম অবস্থার মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে, এবং শুষ্ক জলবায়ুতেও চাষ হতে পারে যেখানে অন্যান্য উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে না।

গোক্ষুরা একটি শক্তিশালী ঔষধি ভেষজ এবং বিভিন্ন চিকিৎসাতে একে ব্যবহার করা হয়েছে। এই উদ্ভিদের ফল এবং শিকড় ভারতীয় আয়ুর্বেদে এবং চিন দেশের প্রথাগত চিকিৎসাতে ব্যবহার করা হয়েছে। গোক্ষুরার ফলের মূত্রবর্ধক, কামোদ্দীপক এবং প্রদাহ-বিরোধী গুণ আছে। এই উদ্ভিদের শিকড় ব্যবহৃত হয় হাঁপানি, কাশি, রক্তাল্পতা এবং দেহের অভ্যন্তরের প্রদাহের চিকিৎসার জন্য। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগের চিকিৎসায় এই উদ্ভিদের পোড়া ছাই ব্যবহার করা হয়।

চরক, ভারতীয় চিকিৎসাবিদ্যার জনক, জানিয়েছিলেন যে এই উদ্ভিদটি কামোদ্দীপক, অর্থাৎ যৌন কামনা বৃদ্ধিকারী, মূত্রবর্ধক এবং দেহ থেকে মূত্রের মাধ্যমে টক্সিন বার করে দেয়।

গোক্ষুরা সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক তথ্য:

  • বৈজ্ঞানিক নাম: ট্রিবিউলাস টেরেস্ট্রিস
  • পরিবার: জাইগোফিলিয়েসি
  • সাধারণ নাম: গোখরু, গোকশুর, চটগোখরু
  • ব্যবহৃত অংশ: মূল এবং ফল ঔষধ ব্যবহৃত হয়।
  • আদি উৎপত্তি এবং ভৌগলিক বিতরণ: এই ঔষধি উদ্ভিদ ভারতে উদ্ভূত। এটি ব্যাপকভাবে ভারত ও আফ্রিকা জুড়ে পাওয়া গেলেও এশিয়ার কিছু অংশ, মধ্য প্রাচ্য এবং ইউরোপেও পাওয়া যায়।
  1. গোক্ষুরার পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্য - Gokshura nutrition facts in Bengali
  2. স্বাস্থ্যের উপকারে গোক্ষুরা - Gokshura health benefits in Bengali
  3. গোক্ষুরার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Gokshura side effects in Bengali
  4. উপসংহার - Takeaway in Bengali

সমগ্র ট্রিবিউলাস প্ল্যান্টের বিভিন্ন অংশে অনেকগুলি রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা নিরাময়কারী এবং পুষ্টিকর হিসাবে মূল্যবান।

এর পাতায় রয়েছে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, লোহা, প্রোটিন, ইত্যাদি যা হারকে শক্ত করে। গোক্ষুরার বীজ চর্বি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ, এবং গোক্ষুরার ফল হল ওলিক অ্যাসিড, স্টিয়ারিক অ্যাসিড এবং গ্লুকোজ সমৃদ্ধ।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ হোম সায়েন্স অনুযায়ী গোক্ষুরা চূর্ণতে এই পুষ্টিগুলি বর্তমান:

পুষ্টি মান/100 গ্রাম
শক্তি 73.48 কিলো ক্যালোরি
কার্বোহাইড্রেট 15.9 গ্রাম
প্রোটিন 1.3 গ্রাম
ফ্যাট 0.25 গ্রাম
ফ্ল্যাভোনয়েডস 19.92
ভিটামিন  
ভিটামিন সি 14.2 মিলিগ্রাম
খনিজ পদার্থ  
ক্যালসিয়াম 59 মিলিগ্রাম

উচ্চ ঔষধিগুণের জন্য এই উদ্ভিদগুলি প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে বিভিন্ন রোগের প্রতিকারে ব্যবহৃত হয়েছেগোক্ষুরার সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উপকারগুলি হল:

  • শরীরচর্চার জন্য: পেশির শক্তি বৃদ্ধি এবং দেহের গঠনের জন্য গোক্ষুরা ব্যবহার করা হয় এবং এটি স্টেরয়েডের একটি প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে
  • মানসিক স্বাস্থ্যের বিশৃঙ্খলায়: গোক্ষুরা তে স্যাপিওনিনস থাকায় এর অবসাদ বিরোধী এবং উদ্বেগ নাশক গুণ আছেকাজেই অবসাদ এবং উদ্বেগের ব্যবস্থাপনাতে একে ব্যবহার করা যেতে পারে
  • হৃদযন্ত্রের জন্য: গোক্ষুরা তে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এর কার্ডিয়ো-প্রোটেকটিভ গুণ আছেগোক্ষুরা রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল হ্রাস করতে সহায়তা করে, তাই এথেরোস্ক্লেরোসিস এবং হৃদযন্ত্রের অন্যান্য সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে
  • বৃক্ক (কিডনি) 'র জন্য: গোক্ষুরা একটি মূত্রবর্ধককাজেই শরীর থেকে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থ বার করে দিয়ে বৃক্কে পাথর (কিডনি স্টোন) জমা হওয়া প্রতিরোধ করতে পারেবৃক্কের কর্মক্ষমতাও উন্নত হয়
  • মহিলাদের জন্য: মহিলাদের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গোক্ষুরার বহুবিধ প্রভাব আছেনিয়মিত সেবন করলে কামজ এবং যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি পায়এছাড়া পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম) এবং ইউটিআই (ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশান) 'এর বিরুদ্ধেও কাজ করে
  • অন্যান্য উপকার: ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ব্রণ, একজিমা, চুলকানি এবং ত্বকের অস্বস্তি দূর করেচুল এবং ত্বকের বয়োবৃদ্ধির চিহ্নগুলি আসতে দেরি করায়আধকপালে, অর্শ এবং ফিস্টুলা রোগেও উপকার দেয়

বেশির ভাগ গবেষণাই দেখিয়েছে যে গোক্ষুরা খাওয়া নিরাপদ এবং এর কোন গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। গোক্ষুরা খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে এবং পুরুষদের প্রস্টেট'এর আকার বৃদ্ধি পেতে পারে। আপনার দৈনন্দিন খাদ্যে গোক্ষুরাকে যোগ করার আগে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিন। নিম্ন লিখিত ক্ষেত্রগুলিতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

  • গর্ভবতী এবং স্তন্যদাত্রী মহিলা: গর্ভবতী এবং স্তন্যদাত্রী মহিলাদের সুপারিশ করা হচ্ছে তারা যেন গোক্ষুরা না খান, কারণ এটি ভ্রূণের বিকাশ প্রতিরোধ করে।
  • এলার্জির প্রতিক্রিয়া: কোন কোন ব্যক্তির পেটের গোলমাল বা ফুসকুড়ির মত এলার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
  • গুরুতর শল্য চিকিৎসার ইতিহাস: যদি শল্য চিকিৎসা হয়ে থাকে তাহলে নির্ধারিত মাত্রায় গোক্ষুরা সেবন করা যায়।
  • বর্তমান অসুস্থতা: যদি আপনি বর্তমানে ওষুধ নিতে থাকেন বা আপনার কোন গুরুতর অসুস্থতা থাকে তাহলে গোক্ষুরা সেবনে সাবধানতা অবলম্বন করবেন। যে সব মহিলাদের জরায়ু বা স্তনের কর্কট রোগ হয়েছে, তারা গোক্ষুরা সেবন করবেন না। পুরুষদের ক্ষেত্রে যাদের প্রোস্টেটে কর্কট রোগ হয়েছে, তারাও গোক্ষুরা এড়িয়ে যাবেন।
  • মধুমেহ: রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমিয়ে গোক্ষুরা একে নিয়ন্ত্রণ করে। আপনি যদি মধুমেহর রোগী হন এবং ওষুধ নিতে থাকেন, তাহলে আপনার চিকিৎসকের কাছে গোক্ষুরার সঠিক মাত্রা জেনে নিন।
  • উচ্চ রক্তচাপের রোগী: যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গোক্ষুরা নেবেন, কারণ এটি একটি প্রমাণিত রক্তচাপ হ্রাস করার ঔষধি।
  • শিশু: শিশুরা সংবেদনশীল হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন রকমের ওষুধ দেওয়া উচিৎ নয়।

গোক্ষুরা বা ট্রিবিউলাস টেরেস্ট্রিস পাতাযুক্ত একটি ছোট উদ্ভিদ, যা যুগ যুগ ধরে থেকে আয়ুর্বেদ এবং ঐতিহ্যগত ঔষধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম কিন্তু স্বাস্থ্যের উপকারের তালিকাটি দীর্ঘ। মধুমেহ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের উপকারে আসে। এটি কামশক্তির উন্নতিও করে। কোন রুমের সম্পূরক নেওয়ার আগে, সেটি স্বাস্থ্যের কতটা উপকারে আসে এবং এর ঝুঁকি কতটা সেই তথ্যগুলি জেনে নেওয়া ভাল, এবং এটি ট্রিবিউলাস টেরেস্ট্রিস’এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

और पढ़ें ...