myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

স্ফীত হওয়া এক ধরণের আঁটসাঁট হওয়ার অনুভূতি বা চাপভাব, যা পাকস্থলীতে গ্যাস বাড়া বা না বাড়ার কারণে হয়ে থাকে, যাতে পেটে ফাঁপাভাব বা খালিভাব অনুভূত হয়। আমরা সকলেই সেই সময়ের সম্মুখীন হয়েছি যখন কুশন বা ব্যাগ দিয়ে আমরা আমাদের পেট ঢেকেছি। মেদবহুল পেট এমন একটি ব্যপার যার থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। এটি হওয়ার কারণগুলি হল পাকস্থলীতে গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরের জল ধারণ করে রাখা, বদহজম, চর্বি জমা ইত্যাদি। শরীরচর্চা, সুস্থকর খাদ্যাভ্যাস এবং এই অবস্থার অন্তর্নিহিত চিকিৎসার সমন্বয়ে স্ফীতভাবের নিরাময় সম্ভব।

  1. কি কারণে পাকস্থলীতে স্ফীতভাব হয় - What causes bloating in the stomach in Bengali
  2. স্ফীতভাবের ঘরোয়া প্রতিকার - Home remedies for bloating in Bengali
  3. খাবার যা স্ফীতভাব কমায় - Foods that reduce bloating in Bengali
  4. যেসব গাছড়া স্ফীতভাব কমায় - Herbs that reduce bloating in Bengali
  5. কিভাবে স্ফীতভাব এড়াবেন - How to prevent bloating in Bengali

স্ফিতভাব মুলতঃ নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য হয়ে থাকেঃ

প্রক্রিয়াগত খাবার

ভাজা বা তৈলাক্ত খাবারে ট্রান্স-ফ্যাট, সংরক্ষক, কৃত্রিম অ্যাডিটিভ, চিনি ইত্যাদি অনেক ধরণের অস্বাস্থ্যকর উপকরণ থাকে তৈরি হয় যেগুলি উচ্চ ক্যালোরিসম্পন্ন ও সম্পূর্ণভাবে হজম হতে প্রচুর সময় নেয় এবং শরীর থেকে নিষ্কাশিত হতেও আরও বেশি সময় নেয়। সেহেতু স্ফীতভাব রোধ করতে তৈলাক্ত খাবারের থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা উচিৎ।

অতিরিক্ত ফাইবার সেবন

গ্যাস্ট্রোন্টেরোলজি এবং হেপাটোলজির ওপর প্রকাশিত একটি পত্রিকায় ব্যখ্যা করা হয়েছে যে সাধারণ চিনি, খাদ্যতালিকাগত ফাইবার(পুর্ণ শস্য, বিনস, জই ইত্যাদি)এবং কিছু জটিল কার্বোহাইড্রেট যেগুলি ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয় না। এগুলিই নিম্নস্তরে মলাশয়ে ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য তৈরি করে। ব্যাকটেরিয়া এগুলিকে উত্তেজিত করে তোলে যার ফলে গ্যাস তৈরি হয় যার কারণে স্ফীতভাব তৈরি হয়। সেহেতু ফাইবার কম পরিমাণে আছে সেরকম খাবার খেলে স্ফীতভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ব্যাকটেরিয়ার অতিবৃদ্ধি

কোন কোন সময়ে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে ওঠা শুরু করে এবং বৃহৎ পরিমাণে গ্যাস তৈরি করে যার ফলে স্ফীতভাব আসে।

সাময়িক স্ফীতভাব

মাসিকের সময় স্ফীতভাব হয় যখন আপনার শরীরের যৌন হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন ঘটে এবং তার ফলে পেটে ফাঁপাভাব দেখা দেয়। শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে তরল বার করে দিতে সাহায্য করে প্রজেস্টেরন। মাসিক শুরু হলে এর মাত্রা কমতে থাকে যার ফলে শরীরে তরল থেকে যায় এবং স্ফীতভাব দেখা দেয়।

অন্ত্রে প্রদাহ

অন্ত্রে প্রদাহ(ফুলে যাওয়া)হওয়ার কারণে অস্বাভাবিক পয়ঃপ্রণালী শুরু হয় এবং খাবার সহজভাবে শরীর থেকে বেড়িয়ে যেতে দেয়না। এর ফলে একরকম পূর্ণতার ভাব এবং আঁটসাঁটভাব দেখা দেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য

হজম হয়ে যাওয়া খাবার শরীর থেকে নির্গত হওয়ার হার কমে যাওয়াকে বলে কোষ্ঠকাঠিন্য। কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে যখন আপনার মল শক্ত হয়ে যায় এবং শরীর থেকে তা নির্গত করার প্রক্রিয়াটি কঠিন ও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

দেরি করে পাকস্থলী খালি হওয়া

অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া পূর্ণতার ভাব আনে এবং খাবার হজম হতেও সময় লাগে। এর ফলে দেরি করে খাবার নিষ্কাশিত হয় এবং বদহজম হওয়ার কারণে স্ফীতভাব আসে। সেহেতু ঘনঘন স্বল্পাহার একবারে বেশি খাওয়ার চেয়ে উপকারী।

চর্বি জমা

বৃহৎ পরিমাণে তৈলাক্ত ও ট্রান্স-ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার কারণে পেটের অঞ্চলে চর্বি জমে এবং স্ফীতভাব তৈরি হয়।

ধূমপান

সিগারেট থেকে নির্গত ধোঁওয়া শুধুমাত্র যে আপনার ফুসফুসেরই ক্ষতি করে তা নয়, এটি আপনার পাচনতন্ত্রের জন্যেও ক্ষতিকর। ধূমপানের সময় নির্গত ধোঁওয়া পাচনতন্ত্র শুষে নেয় যার ফলে স্ফীতভাব তৈরি হয়।

বদহজম

কিছু লোকের কিছু ধরণের খাবার সহ্য হয় না যেমন ল্যাকটোস(দুধ এবং সেই জাতীয় দ্রব্যে পাওয়া যায়)গ্লুটেন, বিনস, ইত্যাদি এবং এগুলি হজম করাও তাদের জন্য কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এটি ক্রোনের রোগ নামক পাচনতন্ত্রের এক ধরণের ব্যাধির কারণেও হয়। এর থেকে স্ফীতভাব তৈরি হয়।  

জল ধারন

বেশি পরিমাণে চিনি না নুন খেলে শরীর জল ধরে রাখে বেশিক্ষণ বিশেষতঃ পেটের অঞ্চলে এবং এই কারণেই স্ফীতভাব তৈরি হয়।

মদ্যপান

অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান যকৃৎ ও অগ্নাশয়ের মত পাচনতন্ত্রের অঙ্গগুলির সুস্থ ও স্বাভাবিক ক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে। এর ফলে খাবার হজমের প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হয় যার ফলে স্ফীতভাব তৈরি হয়। 

নিম্নলিখিতগুলি হল আমাদের তালিকায় থাকা কিছু নিয়মাবলী যা আপনাকে স্ফীতভাব থেকে মুক্তি দেবে, এর অন্তর্নিহিত কারণগুলি দূরীভূত করার সাথে সাথে, যেমনঃ

জল খান

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে চর্বি জমা কমে এবং সাথে সাথেই অতিরিক্ত চিনি ও নুন শরীরের থেকে বের করে দিয়ে তা স্ফীতভাব কমায়।

ধ্যান

উদরে স্ফীতভাব রয়েছে এরকম কিছু লোকজনের ওপর করা একটি গবেষণা ইঙ্গিত করে যে চাপ, উদ্বেগ এবং মানসিক সমস্যার সাথে স্ফীতভাবের আনুসঙ্গিক যোগ রয়েছে। যদিও এগুলি স্ফীতভাবের প্রধান কারণ নয়, কিন্তু এই সকল লোকজনের মধ্যে এই লক্ষণগুলি খুবই প্রকট। সেহেতু ধকল নিঃসরণ করতে পারলে স্ফীতভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। বিভিন্নভাবে ধকল দূরীভূত করা যায় যেমন ধ্যান, সঙ্গীত, যোগা, শিথিলকরণ থেরাপি, কাউন্সেলিং ইত্যাদি।

ম্যাসেজ

ম্যাসেজ সাহায্য করে খাবার মলাশয়ে পৌঁছতে। বৃত্তাকার ভাবে পেটের ডানদিক থেকে শ্রোণীচক্র অবধি পৌঁছে আবার পাঁজরের দিকে ফিরে আশার প্রক্রিয়ায় আপনি ম্যাসেজ শুরু করতে পারেন।

যোগা

যোগা রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং এই প্রকারে শরীরের সংক্রমণ ও প্রদাহ রোধ করার ক্ষমতা বর্ধিত করে। শায়িত অবস্থায় হাঁটু দুটি সামনে দিকে তুলে বুকের কাছে নিয়ে আসুন বা ভাঁজ করা অবস্থায় হাঁটুগুলি একদিকে ও মাথা তার বিপরিত দিকে নিয়ে যান। এইগুলি হল এমন কিছু অনুশীলন যা করলে আপনার পেটে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হবে এবং পেটের পেশী শক্তিশালী হবে।    

বেকিং সোডা

বেকিং সোডা হল একটি কার্যকর অম্লনাশক যা আমাদের পেটে থাকা অ্যাসিডের সাথে লড়ে এবং অম্লতা থেকে মুক্তি দেয় যেটি স্ফীতভাব আসার একটি প্রধান কারণ। উষ্ণ জলে এক চা চামচ বেকিং সোডা দিয়ে তৎক্ষণাৎ সেটি খেয়ে নিন। রোজ একবার করে এটি করতে থাকুন।

নারকেল তেল

নারকেল তেল হল একটি প্রাকৃতিক প্রদাহরোধী প্রতিনিধি যা আপনার অন্ত্র ঠাণ্ডা রেখে স্ফীতভাব কমায়। আপনি হয় এক চা চামচ ভোজ্য নারকেল তেল খেতে পারেন অথবা সালাদ বা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে নিতে পারেন।

আপেল সিডার ভিনিগার

আপেল সিডার ভিনিগারের হজমশক্তি উন্নত করার বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। স্ফীতভাব কমাতে রোজ একবার করে এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনিগার এক গ্লাস গরম জলে মিশিয়ে খান।

রেড়ির তেল

গ্যাস্ট্রএন্ট্রেরলজির ওপর প্রকাশিত একটি পত্রিকায় বিরক্তিকর পেটের সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে রেড়ির তেলকে প্রস্তাব করা হয়। এটি অন্ত্রের জন্য একটি রেচক হিসেবে কাজ করে এবং অন্ত্রে থাকা সামগ্রী বার করে দিতে সাহায্য করে। আপনি হয় এক কাপ ফলের রসের সাথে এক চা চামচ রেড়ির তেল মিশিয়ে নিয়ে খেতে পারেন বা স্বাদে অস্বস্তি না হলে এক চা চামচ রেড়ির তেল এমনিই খেতে পারেন।

বিষক্রিয়া দুর করার পানীয়

বিষক্রিয়া দুর করার পানীয় হল একটি কার্যকর পানীয় যার প্রচুর উপকারিতা আছে। এটি অন্ত্র ঠাণ্ডা করে শুধুমাত্র স্ফীতভাবই কমায় তা নয়, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সাহায্য করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, হজমশক্তি উন্নত হয় ইত্যাদি। ঘরে বিষক্রিয়া দুর করার পানীয় বানাতে হলে একটি শশা, একটি লেবু আর দুটি আপেলের মিশ্রণ তৈরি করুন। লেবু শরীর থেকে অতিরিক্ত নুন বার করে দেয় এবং একটি রেচক হিসেবে কাজ করে।   

কুমড়ো

কুমড়ো ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং এতে ভালো পরিমাণে পটাসিয়াম রয়েছে। কুমড়োয় থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং পটাসিয়াম নুনের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতে অতিরিক্ত পরিমাণে থাকা সোডিয়াম শরীর থেকে বের করে দেয়।

কলা

কলা পটাসিয়ামে সমৃদ্ধ এবং শরীরে ধরে রাখা লবনাক্ত জল বের করে দিতে সাহায্য করে যার কারণে স্ফীতভাব এসে থাকে। কলা খেলে শরীরে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম বেড়িয়ে যায় এবং স্ফীতভাব কমে। রোজ 1-2 কলা খান। এর বেশি খেলে তা কোষ্ঠকাঠিন্যের দিকে যেতে পারে।

প্রোবায়োটিকস

প্রোবায়োটিকস সম্প্রতি সুপার ব্যাকটেরিয়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি আপনার পাকস্থলীতে খারাপ জীবাণুদের মেরে ফেলে আপনার অন্ত্র সুস্থ রাখে। গ্যাস্ট্রএন্ট্রেরলজির ওপর প্রকাশিত একটি পত্রিকায় অন্ত্রের অস্বস্তির চিকিৎসার ব্যাপারে বলতে গিয়ে এর উল্লেখ আছে। এটি পেটে গ্যাস জমা ও সংক্রমণ হওয়া থেকে আটকায়। প্রোবায়োটিক সম্পূরক পানীয়, ক্যাপসুল ইত্যাদি হিসেবে পাওয়া যায়। সেবনের মাত্রা নিয়ে কোন সংশয় থাকলে প্যাকেজিং-এ লেখা নির্দেশাবলী পড়ুন বা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। 

ফলের রস

আনারস বা কমলালেবুর রস পেটের প্রদাহ কমাতে ভীষণভাবে সাহায্য করে। এক কাপ রসের সাথে এক কাপ জল মিশিয়ে প্রত্যেক দিন খান। এটি খালি পেটে খাবেন না কারণ খালিপেটে খেলে অম্লতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এটি।

গ্রিন টি

গ্রিন টি-এর কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট রয়েছে। এটি প্রস্বাবের উৎপাদন উন্নত করে শরীর থেকে অতিরিক্ত নুন বের করে দেয়। অতিরিক্ত নুন শরীরে জল ধারন এবং প্রকারান্তরে স্ফীতভাবের জন্য দায়ি। দিনে তিন বার করে গ্রিন টি খেলে আপনি স্ফীতভাবের থেকে মুক্তি পাবেন।

কিউই ফল

গ্যাস্ট্রোন্টেরোলজি এবং হেপাটোলজির ওপর প্রকাশিত একটি পত্রিকা যাতে মননিবেষ করা হয়েছে গ্যাস ও স্ফীতভাবের ওপর, তাতে বলা হয়েছে যে কিউই ফলের নির্যাসে স্ফীতভাব থেকে মুক্তি দেওয়ার ইতিবাছক প্রভাবের প্রমাণ রয়েছে। 

আদা

ফাঁপাভাবের চিকিৎসার ওপর প্রকাশিত একটি পত্রিকায় বলা হয় যে আদা অন্ত্রের প্রদাহ রোধ করতে সাহায্য করে এবং স্ফীতভাব থেকে মুক্তি দেয়। এটি ভারতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত গাছড়াগুলির মধ্যে একটি। এর স্বাদ যদি আপনার অস্বস্তিকর না লাগে, আদার কয়েক টুকরো খেলে তা স্ফীতভাব কমাতে সাহায্য করে। নিজের জন্য আপনি আদা চাও বানাতে পারেন। তার জন্য এক কাপ জলে এক ইঞ্চি আদা যোগ করুন। 3-5 মিনিট এটি ফোটান। এতে স্বাদ উন্নত করার জন্য আপনি মধু বা লেবুও দিতে পারেন। ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার আগেই এটি খান দিনে তিন বার করে।

মৌরির বীজ

ফাঁপাভাবের প্রতিরধের ওপর প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক পত্রিকায় বলা হয়েছে মৌরির বীজ হজমে সাহায্য করে। আপনি এই বীজগুলি চিবিয়ে খেতে পারেন বা মৌরিদানার চা হিসেবেও খেতে পারেন। এই চা তৈরি করার জন্য আধ চা চামচ গুড়ো করা মৌরিদানা এক কাপ জলে দিয়ে তা কয়েক মিনিটের জন্য ফোটান। ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার আগে এই চা পান করুন। দিনে দুবার করে এটি পান করুন।

পিপারমিন্ট

হজম সংক্রান্ত রোগ এবং বিজ্ঞানের একটি পত্রিকায় পিপারমিন্ট চা এবং পয়ঃপ্রণালীর রোগ নিরাময়ে এর উপকারিতার কথা বলতে গিয়ে বলা হয়েছে যে এটি একটি আরাম প্রদায়ক এবং এটি গ্যাস বের করে দিতে ও পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া আটকাতে সাহায্য করে। এর ফলে অন্ত্রে থাকা সামগ্রী সহজে বেড়িয়ে যায় এবং স্ফীতভাব কমে। আপনি পিপারমিন্টের পাতা জলে ফোটান। চায়ের আকার নিলে 3-5 ঘনত্ব বাড়তে দিন এবং এটি দিনে তিনবার খান। 

কেওড়া বীজ

কেওড়া বীজ কোষ্ঠকাঠিন্য, স্ফীতভাব, গ্যাস, অম্বল ইত্যাদি থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। এগুলি মৌখিক ভাবে চিবিয়েও খাওয়া যায় বা কেওড়ার তেল হিসেবেও খাওয়া যায়।

স্টার অ্যানিস

স্টার অ্যানিস আপনার অন্ত্রের পেশীগুলিকে শিথিল করতে ও পাচনতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে খাবার দ্রুত চালনা করতে সাহায্য করে। এক কাপ গরম জলে এক চা চামচ স্টার অ্যানিস দিন এবং এটি 5-10মিনিট ফোটান। দিনে 2-3বার এই চা পান করুন। এর ফলে স্ফীতভাব থেকে মুক্তি পাবেন।

ঘৃতকুমারী

ঘৃতকুমারী পরিচিত এর প্রদাহরোধী ও হালকা রেচকের কার্যকারিতার জন্য। এটি আপনার অন্ত্র ঠাণ্ডা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও রেহাই দেয়। এক চতুর্থাংশ বা আধ কাপ ঘৃতকুমারী খেলে স্ফীতভাবের বিরুদ্ধে ভালো ফল পাওয়া যায়।

আরও কিছু গাছড়া যাতে স্ফীতভাবের বিরুদ্ধে ভালো ফল পাওয়া যায় তা হল ক্যামোমিল, তুলসী, জিরা, পার্সলে, পুদিনা ইত্যাদি। এই গাছড়াগুলি সহযোগে চা তৈরি করা যায় বা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে মেশানো যায় যেমন দই, ঘোল, সালাদ ইত্যাদি।

বেশ কিছু খাদ্য সংক্রান্ত ও জীবনধারা সম্পর্কিত পরিবর্তন করলে স্ফীতভাব এড়ানো সম্ভব ও একটি সুস্থ সমতল পেট পাওয়া সম্ভব। নিম্নলিখিত গুলি হল এমন কিছু ব্যপারের তালিকা যেগুলি আপনার ভুঁড়ি হওয়া আটকাবে।

ধূমপান বন্ধ করুন

ধূমপান ও তার পাকতন্ত্রজনিত রোগের ওপর প্রভাবের ওপর করা একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে ধূমপানের সাথে স্ফীতভাব ছাড়াও পেট ব্যথা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের যোগাযোগ রয়েছে। সুতরাং আপনার সিগারেটটি নামিয়ে রেখে সুস্থ জীবন ও স্বাস্থ্যবান পেট বেছে নেওয়া উচিৎ।

সীমিত মদ্যপান

“ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ওব অ্যলকোহলিজিম অ্যন্ড অ্যলকোহল অ্যবিউজ” দ্বারা প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে মদ যকৃৎ ও অগ্নাশয় সহ হজম এবং অন্যান্য বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপে হস্তক্ষেপ করে। ফলত, খাবার ঠিকভাবে হজম হয়না এবং ঝুঁকি থেকেই যায় যকৃতের ভেতরে ও বাইরে চর্বি জমার ও স্ফীতভাবের সাথে সাথে আরও গুরুতর অবস্থা আসার। সেহেতু দুঃখিত হওয়ার চেয়ে নিরাপদ থাকা ভাল এবং সীমিত পরিমাণে মদ্যপান করলে আপনি নিজেকে শারীরিক সমস্যা থেকে দূরে রাখতে পারবেন।

তৈলাক্ত ও ফ্যাট জাতীয় খাবার সীমিত রাখুন

তৈলাক্ত খাবারে অনেক ধরণের অস্বাস্থ্যকর উপকরণ থাকে যেমন ট্রান্স-ফ্যাট, সংরক্ষক, কৃত্রিম অ্যাডিটিভ, চিনি ইত্যাদি যেগুলি উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন হওয়ার কারণে হজম হতে সময় লাগে এবং তার চেয়েও বেশি সময় লাগে শরীর থেকে তা নিষ্কাসিত হতে। সুতরাং যতটা সম্ভব বাইরের ভাজাভুজি ও তৈলাক্ত খাবারের থেকে দূরে থাকা যায় ততটাই দূরে থাকা যাবে স্ফীতভাবের থেকে।

চর্বিযাত খাবার বেশিরভাগ সময় পেটের জায়গায় চর্বি জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিশেষত বনস্পতি তেল থেকে তৈরি হওয়া খাবার। সেহেতু চর্বিজাতীয় খাবার থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকলে স্ফীতভাব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে।  

খাবার খাওয়ার সময় জল খাওয়া এড়িয়ে চলুন

খাবার খাওয়ার সময় স্বল্প পরিমাণে জলে চুমুক দেওয়া বিশেষ উদ্বেগের কারণ নয় তবে এক বা দুই গ্লাস জল এই সময় খেলে তা হজমের প্রক্রিয়াতে বাধা দেয় এবং স্ফীতভাবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং এই সময়ে জল খাওয়া থেকে বিরত থাকলে হজম করার পাচক রসগুলি লঘু হওয়া থেকে আটকানো যাবে।

দুগ্ধজাত পণ্য এড়িয়ে চলুন

অনেক লোকেই জানেনা যে তারা ল্যাকটোজে অসহিষ্ণু হয়ে থাকতে পারে, যার মানে হল তাদের দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য হজম করতে অসুবিধা হয়। এটি স্ফীতভাব আসার অন্তর্নিহিত কারণ। সুতরাং দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়ার পর লক্ষ্য করুন আপনার পেটে কিরকম অনুভব করছেন। কিছু সপ্তাহের জন্য খাদ্যতালিকা থেকে এগুলি বাদ দিয়ে লক্ষ্য করুন কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন কি না। 

ধকলমুক্ত হন

উপরুক্ত অনুযায়ী, স্ফীতভাব সহ অন্ত্রের বহু সমস্যার সাথে ধকলের যোগাযোগ পাওয়া গেছে। সুতরাং আপনার সময়সূচি থেকে খানিকটা সময় বের করুন এবং মনকে স্থির করুন। সুস্থ শরীর ও প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলার পেছনে একটি সুস্থ মনের অবদান বিশাল। খুশি থাকুন ও স্ফীতভাব দূরে রাখুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

স্বাস্থ্যকর ওজন এবং উন্নত রক্ত সঞ্চালনের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা যে চিরকালই সহায়ক টা বলাই বাহুল্য। সুতরাং স্ফীতভাবের থেকে দূরে থাকতে আপনার উচিৎ শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং ওই পেশীগুলিকে সচ্ছল রাখা।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান

যেমন আমরা আগে বলেছি, জলের বিষাক্ত পদার্থ, অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত নুন শরীর থেকে বের করে দেয় এবং পেটে চর্বি জমা প্রতিরোধ করে। সুতরাং জলের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখুন এবং নিশ্চিতভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে খান যাতে আপনার পেট সুস্থ ও ত্বক দীপ্তিময় থাকে।

নুন ও চিনির পরিমাণে হ্রাস টানুন

নুন ও চিনিতে হ্রাস টানলে শুধুমাত্র শরীরের জল ধরে রাখার থেকে বা স্ফীতভাব থেকেই মুক্তি পাবেন তা নয়, দীর্ঘকালের কথা ভাবলে, আপনার শরীরের সার্বিক ভাল স্বাস্থ্যের উদ্দেশে এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত হবে।

কার্বনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলুন

স্বাদযুক্ত সোডা ও বিয়ারের মত কার্বনেটেড পানীয়তে কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকে যেটি আপনার অন্ত্র ও মলাশয়ে জমতে থাকে এবং আপনার পেটের স্ফীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে চিনি ও মাদক মেশানো থাকে(বিয়ার) যেগুলি সীমিত পরিমাণে সেবন করতে বলা হয় স্ফীতভাব এড়াতে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

স্বাস্থ্যকর খাবার আপনার অন্ত্রকে সুখি ও স্বাস্থ্যকর রাখে। সার্বিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ফাইবারে সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খান, তৈলাক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন, ফল ও সবজির রস খান, সবুজ শাকসবজি খান, দুধের চেয়ে দুগ্ধজাত দ্রব্য, যেমন দই ইত্যাদি খান বেশি, কারণ এতে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া থাকে।

অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলুন

অনেক সময়ে আমদের যতক্ষণ না মন ভরছে আমরা খেয়েই যাই, যা আমাদের পাকস্থলীর ধারন করার ক্ষমতা অতিক্রম করে যায়। এই ব্যপারটিকেই আমরা অতিরিক্ত খাওয়া বলে থাকি। অতিরিক্ত খাওয়া নিশ্চিতভাবেই আপনার অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে, এবং কিছু সময়ের জন্য চলতে থাকলে স্ফীত পেটের কারণ হয়েও দাঁড়াবে। সেহেতু আহার হওয়া উচিৎ ছোট এবং ঘন ঘন।   

और पढ़ें ...

References

  1. Benjamin Misselwitz. Lactose malabsorption and intolerance: pathogenesis, diagnosis and treatment. United European Gastroenterol J. 2013 Jun; 1(3): 151–159. PMID: 24917953
  2. William L. Hasler. Gas and Bloating. Gastroenterol Hepatol (N Y). 2006 Sep; 2(9): 654–662. PMID: 28316536
  3. X Jiang et al. Prevalence and risk factors for abdominal bloating and visible distention: A population-based study. Gut. 2008 Jun; 57(6): 756–763. PMID: 18477677