myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

ভিটামিন এ চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন, যা প্রাকৃতিক ভাবে কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যের মধ্যে পাওয়া যায়। এটি প্রোভিটামিন এ থেকে উদ্ভূত এবং চোখের স্বাস্থ্যের (দৃষ্টিশক্তি) জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য।

ভিটামিন এ'কে রেটিনল বলা হয় কারণ এটি রঙ্গক (পিগমেন্ট) উৎপাদনে সহায়তা করে যা চোখের রেটিনার গঠনে সাহায্য করে। আপনি জেনে অবাক হতে পারেন যে ভিটামিন এ'র অভাব বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের অন্যতম সাধারণ কারণ।

ভিটামিন এ একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা আপনাকে ফ্রি র‍্যাডিকেলগুলির ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে। আপনার শরীরের সঠিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য ভিটামিন এ'র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে মনে করা হয়। তাই এই ভিটামিন শিশুদেরও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এটি আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য, টিস্যু, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, হাড় এবং দাঁত বজায় রাখতে সহায়তা করে। অনেক কোষের কাজ চালু রাখার জন্যও এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। অধিকন্তু, ভিটামিন এ আপনার দেহের সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা উন্নত করতে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে, যা আপনাকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে।

এই নিবন্ধটিতে বিভিন্ন বয়সের জন্য ভিটামিন এ’র গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি, এর দৈনিক প্রয়োজনীয়তা, খাদ্য উৎস এবং ভিটামিন এ সম্পূরক অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

  1. ভিটামিন এ'র দৈনিক সুপারিশ করা মাত্রা - Vitamin A recommended daily intake in Bengali
  2. ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাদ্য - Vitamin A rich foods in Bengali
  3. স্বাস্থ্যের উপকারে ভিটামিন এ - Health benefits of vitamin A in Bengali
  4. ভিটামিন এ'র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Vitamin A side effects in Bengali

ভিটামিন এ'র সুপারিশ করা দৈনিক মাত্রা আপনার ওজন, উচ্চতা, লিঙ্গ, এবং বয়সের উপর নির্ভর করে। এটি আপনার বসবাসের এলাকার উপর নির্ভর করে। ভিটামিন এ'র অভাব  অথবা অপুষ্টিতে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের এই ভিটামিন'টির উচ্চ মাত্রায় প্রয়োজন।

শিশুদের মধ্যে ঘাটতি রোধ করার জন্য স্তন্যদাত্রী মহিলাদের (বুকের দুধ খাওয়ানো) এবং গর্ভাবস্থার সময় এটি আরও বেশি প্রয়োজন। ভিটামিন এ'র মাত্রা বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। এই ভিটামিন গ্রহণ করার উচ্চতম মাত্রা নিচে উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম না করার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে।

সাধারণত, 3000 আইইউ (1 আইইউ = 0.6 এমসিজি বিটা-ক্যারোটিন) 'এর চেয়ে দৈনিক বেশি মাত্রা সুপারিশ করা হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ এই ভিটামিন পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যে পাওয়া যায় এবং শরীরেও সংরক্ষণ করা হয়।

বাইরের পরিপূরকগুলি যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে পরামর্শ দেওয়া হয় যে  রেটিনলের পরিবর্তে বিটা-ক্যারোটিন পরিপূরক গ্রহণ করতে, কারণ ক্যারোটিন থেকেই দেহে স্বাভাবিক ভাবে ভিটামিন এ'র উৎপত্তি হয়, এবং শরীরে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন এ সংরক্ষণ করা হয়। তবে, রেটিনল'এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং হাইপার-ভিটামিনোসিস হতে পারে, যা হল অতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন খাওয়ার বিষাক্ত পরিণতি। ভিটামিন এ'র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি পরবর্তী বিভাগগুলিতে আলোচনা করা হয়েছে।

বয়স এবং মাত্রার এর উচ্চতম সীমা:

  • জন্ম থেকে 3 বছর: 600 এমসিজি
  • 4 বছর থেকে 8 বছর: 900 এমসিজি
  • 9 বছর থেকে 13 বছর: 1700 এমসিজি
  • 14 বছর থেকে 18 বছর: 2800 এমসিজি
  • প্রাপ্তবয়স্ক মাত্রা: 3000 এমসিজি
  • গর্ভাবস্থা এবং ল্যাকটেশন: 3000 এমসিজি
  • স্তন্য-নির্ভর শিশুদের মধ্যে ঘাটতি রোধে 120, 000 এমসিজি পরিমাণ ভিটামিন এ শিশুর মা'কে দেওয়া হয়। এই পরিমাণ সাধারণত ভাল ভাবেই সহ্য করা যায় এবং মা'এর দুধের মানকে প্রভাবিত করে না।

নিম্নলিখিত খাদ্যবস্তুগুলি ভিটামিন এ'র উৎস:

  • গাজর এবং অন্যান্য সবজি যাতে প্রাকৃতিক রঙিন রঙ্গক (পিগমেন্ট, বিটা-ক্যারোটিন) থাকে যেমন লাল, সবুজ এবং হলুদ ক্যাপসিকাম
  • সবুজ শাক সবজি যেমন ব্রোকলি, কেল, পালং শাক, ধুন্দুল, স্কোয়াশ
  • কড মাছের যকৃতের তৈল
  • আঙ্গুর, পেঁপে, খেজুরের মতো ফল
  • কুমড়া
  • দুগ্ধজাত পণ্য (দুধ, পনির, দই)
  • মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস এবং মাছ, বিশেষ করে পেপে
  • ডিমের কুসুম
  • যকৃৎ
  • ব্রেকফাস্ট খাদ্যশস্যের মত কিছু প্যাকেজ করা খাবার

আপনার খাদ্যে উপরে উল্লেখ করা ভিটামিনের প্রাকৃতিক উৎসগুলি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো সম্পূরক গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের এইগুলি গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কারণ এগুলি নবজাতকদের জন্মগত ত্রুটি ঘটাতে পারে।

ভিটামিন এ আপনার স্বাস্থ্য, বিশেষ করে আপনার চোখের স্বাস্থ্য এবং দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য খুব উল্লেখযোগ্য উপকার দেয়। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন বয়সের ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন প্রকারের উপকার দেয়, যা নিয়ে পরে আলোচনা করা হবে।

  • দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণ: ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তির হ্রাস প্রতিরোধ করে এবং বয়সের কারণে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রতিরোধের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। এটি ক্যারোটিনয়েডস দিয়ে গঠিত, যা আপনার চোখকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং এইভাবে দৃষ্টি রক্ষা করে।
  • বয়সের ছাপ প্রতিরোধ: ত্বকের নতুন কোষ গঠনে ভিটামিন এ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণের জন্য চামড়ার অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। সুতরাং, আপনি যদি প্রস্তাবিত মাত্রায় এই ভিটামিন গ্রহণ করতে থাকেন তবে বলিরেখা ও জরার চিহ্নের ছাপ পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
  • গর্ভবতী মহিলাদের জন্য: ভিটামিন এ'র ঘাটতি শুধুমাত্র প্রসবের সময়কেই এগিয়ে আনে, তা নয়, বরং এটি জন্ম-কালীন ত্রুটি, যেমন শেখার অক্ষমতা জাতীয় ত্রুটিগুলির সাথে যুক্ত।
  • নবজাতক এবং শিশুদের জন্য: ভিটামিন এ শিশুদের রোগ প্রতিরোধে, তাদের যথাযথ বৃদ্ধিতে এবং বিকাশে সহায়তা করে। এটি নবজাতকদের শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নত করে।
  • মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা উন্নত করে: ভিটামিন এ শিশুদের মস্তিষ্কের কোষগুলির যথাযথ বৃদ্ধি এবং বিকাশকে সহায়তা করে এবং এটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের সার্ক্যাডিয়ান  রিদম বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক, যা চাপ কমিয়ে মস্তিষ্কে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • হাম রোগে মৃত্যুর হার হ্রাস: দেখা গিয়েছে যে ভিটামিন এ'র ইন্ট্রামাস্কুলার ইনজেকশন অপুষ্ট শিশুদের হাম রোগের ঝুঁকি কম করে। এটি তাদের মৃত্যুর হার হ্রাস করে বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি করে।

রেটিনল রূপে অত্যধিক ভিটামিন এ'র নিম্ন লিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি হতে পারে:

দেহ যদি অত্যধিক পরিমাণে ভিটামিন এ জমা করে তাহলে যকৃতের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাধিগুলিও এই ক্ষেত্রে ঘটতে পারে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।

অত্যধিক মাত্রায় ভিটামিন এ রক্তের অক্সিজেন'এর মাত্রা কম করে দিতে পারে। ফলে বাচ্চাদের শ্বাস কষ্ট হতে পারে। কাজেই বাচ্চাদের অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন এ অবশ্যই দেবেন না, বিশেষত যারা নিউমোনিয়াতে ভুগছে বা নিউমোনিয়া থেকে সেরে উঠছে।

(আরও পড়ুন: দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার চিকিৎসা)

और पढ़ें ...