myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

জবার অন্য নাম হল রোজমেলো অথবা চিনা গোলাপ। এর রঙিন ফুলের জন্য সাধারণত জবা গাছ বাগানের শোভা বৃদ্ধির জন্যই লাগান হয়। গাছটি সুন্দর হলেও চিকিৎসার জগতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। জবা গাছ মাল্ভেল গোষ্ঠীর মালভেসিয়া পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এটি পৃথিবীর ক্রান্তীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলে উদ্ভূত, যেখানে ব্যাপকভাবে এর বিতরণ দেখা যায়। 

এর ইংরাজি নাম হিবিসকাস'এর উৎপত্তি গ্রীক ভাষার 'হিবিসকস' শব্দটি থেকে। এই চির সবুজ গুল্মটি সাধারণত 5 মিটার উচ্চতা পর্যন্ত হয় এবং পাতা চকচকে। প্রতিটি ফুল আলাদা আলাদা ভাবে ফোটে। এর ফুলই চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। ফুলগুলি সাধারণত বেশ বড় হয় এবং নানা রঙের হয়, যেমন লাল, হলুদ, সাদা অথবা রক্তবেগুনী।

সব চেয়ে সাধারণ গাছটি হল, হিবিসকাস রোজা-সিনেনসিস। এই গুল্মটির ফুলের রঙ উজ্জ্বল লাল। এই ফুল খেলে অশেষ উপকার পাওয়া যায়। বিভিন্ন অসুখ, যেমন, বদহজম, উৎকণ্ঠা, স্কার্ভি এবং এমন কি জ্বরেও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের নির্দেশ অনুসারে এই ফুল খেলে চিকিৎসা হয়।

জবা সম্পর্কে কিছু মৌলিক তথ্য

  • বৈজ্ঞানিক নাম: হিবিসকাস রোজা-সিনেনসিস
  • পরিবার: ম্যালিয়েসি
  • সাধারণ নাম: জবা, চিনা গোলাপ, রোজমেলো
  • সংস্কৃত নাম: জবা, রুদ্রপুষ্প, জপা, অরুণা, ওদ্রাপুষ্প
  • যে অংশ ব্যবহৃত হয়: ফুল (পাপড়ি)
  • আদি উৎপত্তি স্থল এবং ভৌগলিক বিতরণ: বিশ্বের ক্রান্তিয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চল।
  1. জবার শ্রেণীবিন্যাস এবং প্রকার - Classification and varities of Hibiscus in Bengali
  2. জবা ফুলের নির্যাসের উপকারিতা - Hibiscus flower extract benefits in Bengali
  3. জবা চাষের নিয়ম - How to grow Hibiscus in Bengali
  4. জবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Hibiscus side effects in Bengali

জবার শ্রেণীবিন্যাস

কিংডম: প্ল্যান্টই
ডিভিশান: এ্যাঞ্জিয়োস্পার্মস
ক্লাস: ইউডিকটস
অর্ডার: ম্যালভেলিস
ফ্যামিলি: ম্যালভেসি
জিনাস: হিবিস্কাস

জবার প্রকার
বিভিন্ন প্রকারের জবা বিভিন্ন প্রকারের স্বাস্থ্যের সুবিধা প্রধান করে। জবার 100'এর বেশি প্রকারের কথা জানা আছে। যে গুলি সাধারণত ব্যবহার করা হয়, সেগুলি হল:

  • হিবিসকাস রোজা-সিনেনসিস
    একে সাধারণত চিনা জবা বলা হয় এবং এটিই সব চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। ছোট গুল্ম বা গাছ হয়, আর ফুলের রঙ হয় উজ্জ্বল লাল। পাতাগুলি চকচকে। ফুল খাওয়া যায় এবং তাই স্যালাড সাজাতে ব্যবহার করা হয়। এই ফুলের নির্যাস কেশ চর্চা এবং ত্বকের উপকারী বিভিন্ন পণ্যতে ব্যবহার করা হয়। এই জবা পণ্যগুলিকে দীপ্তি প্রদান করে এবং সেই জন্য জুতোর পালিশে এর ব্যবহার হয়।
     
  • হিবিসকাস সাইরাকিয়াস
    এই ফুলেরও আদি নিবাস চিন দেশে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে এই গাছ বেশি দেখতে পাওয়া যায়। ঝোপরা গুল্ম গাছে ফুলগুলি সাধারণত সাদা, নীল বা হালকা পার্পল রঙের হয়। স্থানীয় মানুষরা ভেষজ চায়ে একে ইনফিউশান হিসাবে ব্যবহার করে। দেখা গিয়েছে যে এই জবা ক্ষুধা বৃদ্ধি করতে পারে এবং কাশির চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়।
     
  • হিবিসকাস টিলাসিয়াস
    এশিয়া এবং আফ্রিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলের উপকূল এলাকায় এই গাছ জন্মায়। ফুলের রঙ হয় উজ্জ্বল কমলা এবং ধীরে ধীরে তা লাল রঙের হয়ে যায়। এটি গাছ হয়ে বৃদ্ধি লাভ করে। এর কাঠ দিয়ে মজবুত দড়ি প্রস্তুত হয় এবং নৌকা মেরামত করা হয়। শিকড় এবং বাকল সিদ্ধ করে ইফিউশান পোস্ট করা হয় যা দিয়ে জ্বরের চিকিৎসা করা হয়।
     
  • হিবিসকাস সাবডারিফা
    এই গাছকে সাধারণ ভাবে রোজেলি বলা হয় এবং পশ্চিম আফ্রিকাতেই এই গাছ বেশি দেখা যায়। এই গাছের প্রভাব খুব ভাল করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর ফুল জবার চা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, এবং এর প্রচুর প্রয়োগ আছে। এই গাছের ফুলের সাথে পুদিনা মিশিয়ে সতেজ-কারক পানীয় তৈরি হয়। অনেক সংস্কৃতিতে এর পাতা সবজি হিসাবে রান্না করা হয়। এই গাছের ডাল থেকে প্রাপ্ত তন্তু পাটের তন্তুর সাথে মিশ্রিত করে আরও মজবুত পণ্য তৈরি হয়।

বিভিন্ন প্রকারের জবা ফুলে নানা রকমের ফাইটো-রাসায়নিক (বায়ো-সক্রিয় যৌগগুলি, যা ওষুধে ব্যবহৃত হয়) থাকে। জবা ফুলের বিভিন্ন অংশ থেকে নিষ্কাশিত অপরিহার্য তেলের অনেক গুণ এবং ব্যবহার আছে। নিচে সেগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

  • চুলের উপকার: যারা দীর্ঘ, উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর চুল কামনা করেন, তাদের জন্য জবা হল চুলের যত্নের আদর্শ সম্পূরক। এটি তেল, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার অথবা মাস্ক হিসাবে ব্যবহার হয় এবং মাথার ত্বক শীতল হয় এবং চুলের শক্তি এবং দীপ্তি বৃদ্ধি পায়।
  • রক্তচাপ হ্রাস করে: জবার প্রদাহ-বিরোধী এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ধর্ম থাকায় রক্তচাপ হ্রাস করে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে কিছু পলিফেনল আছে, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় যাদের রক্তচাপ হ্রাস করার গুণ দেখা গিয়েছে।
  • ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে: জবা ফুলের নির্যাস ক্ষত নিরাময় করে এবং চামড়ার ভাঙার বল বৃদ্ধি করে। এটি ক্ষতের স্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করে।
  • স্থূলতা প্রতিরোধ করে: জবা বিপাক প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে, ফলে স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এই ফুলে বিভিন্ন সক্রিয় যৌগগুলি ফ্রি র‍্যাডিকেল সংক্রান্ত ক্ষতির প্রতিরোধ করে এবং অক্সিডেটিভ চাপ কমায়, যা স্থূলতার একটি অন্যতম কারণ।
  • উপ-বিষ বিতারণ করে: জবা একটি মূত্রবর্ধক এবং এর উপ-বিষ (টক্সিন) বিতারণ ক্ষমতা আছে। ফলে প্রস্রাবের সাথে উপ-বিষ যৌগগুলি এবং অন্যান্য রাসায়নিকগুলি দেহ থেকে বেড়িয়ে যায়।
  • মধুমেহ বিরোধী ধর্ম: গবেষণাগুলি দেখাচ্ছে যে জবার চা ইনসুলিন-প্রস্তুতকারী কোষগুলিকে ইতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করে।। ফলে ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। মধুমেহ রোগীদের ক্ষেত্রে জবা ইনসুলিন-রেজিস্ট্যান্স এবং অক্সিডেটিভ চাপ হ্রাস করে। ফলে রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

সঠিক পরিস্থিতি বজায় রাখলে জবা সহজেই চাষ করা যায়। বাড়িতে জবার চাষ করতে এবং একে রক্ষণাবেক্ষণ করতে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন।

  • সাধারণ নিয়ম:
    জবা বিশ্বের ক্রান্তীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলের গুল্ম। কাজেই জবার জন্য আদর্শ পরিস্থিতি হচ্ছে সূর্যালোক এবং আর্দ্রতার সঠিক সংমিশ্রণ। জবার বিভিন্ন প্রজাতির জন্য উত্তাপ, সূর্যালোক, আর্দ্রতার তফাত হবে।
     
  • জমির গুণমান:
    জমিতে বাতাসের পরিমাণ এবং আর্দ্রতা বেশি দরকার। জমি জৈব সার সমৃদ্ধ হতে হবে।
     
  • মরশুম:
    গ্রীষ্মকাল হল জবার জন্য আদর্শ সময়। এছাড়া বসন্ত এবং শরৎকালও উপযুক্ত। কাটিং এবং রুটিং করে গাছ লাগান হয়। কচি গাছে পিঞ্ছিং করলে গাছগুলি উপযুক্ত আকার নেয় এবং কুঁড়ির সংখ্যা ও ঘনত্ব বাড়ে।
     
  • বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রক:
    গাছ উপযুক্ত উচ্চতা পেলে আবহাওয়া এবং গাছের কোন অংশটির প্রয়োজন, তার উপরে নির্ভর করে গ্রোথ রেগুলেটার প্রয়োগ করা হয়।

জবা গাছের যত্ন

জবা গাছের বৃদ্ধির জন্য জমির আর্দ্রতা ধরে রাখা জরুরী। আর্দ্রতার অভাবে গাছ তাজা ভাব হারাবে। তাই নিয়মিত গাছের গোড়ায় জল দিতে হবে। জমির আর্দ্রতা বজায় রাখার একটি উপায় হল গাছের গোড়ার চারধারে ভেজা খড়, পাতা, ইত্যাদি জমা করে রাখা। এতে গোড়ার চারদিকে আগাছা এবং পরগাছার জন্মানো প্রতিরোধ করা যাবে। মাঝে মাঝে গাছ ছেঁটে দিয়ে আকার ঠিক রাখতে হবে। শীতকালে জবা গাছের সমস্ত বাড়তি ডাল-পালা, মরা ডাল, ইত্যাদি নির্মম ভাবে ছেঁটে ফেলতে হবে। পোকা মাকড়ের সংক্রমণ হলে পোকা নিধনকারী সাবান জল অথবা উদ্যানপালনসংক্রান্ত সাবান জল ব্যবহার করতে হবে।

জবা ফুলের নির্যাসের অনেক গুণ আছে যার জন্য দৈনন্দিন জীবনে এর অনেক ব্যবহার আছে। কিছু মানুষ হয়তো বা এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পেতে পারেন। যেমন:

  • যাদের নিম্ন রক্তচাপ আছে তারা জবা সেবন করলে স্বাস্থ্যের কিছু ক্ষতিকারক প্রভাব পেতে পারেন। মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাবের সাথে বুক ধড়ফড় করতে পারে। এই রকম অভিজ্ঞতা হলে জবা নেওয়া বন্ধ করুন এবং বুক ধড়ফড়ানি থাকলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • জবা ফুলে প্রচুর পরিমাণে এলুমিনিয়াম থাকে। যাদের বৃক্কের (কিডনি) সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এলুমিনিয়াম জমা হলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশে এবং অনেক স্নায়ুর রোগে এলুমিনিয়ামের নেতিবাচক প্রভাব আছে।
  • কারুর আবার জবাতে এলার্জি হতে পারে। এলার্জি হলে জবার চা পান তৎক্ষণাৎ বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে যাতে এলার্জির বৃদ্ধি না হয়।
और पढ़ें ...