myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

আদা গাছটি জিঙ্গিবেরাসি পরিবারের অন্তর্গত হলুদের মত ঔষধীয় বিস্ময়ের পাশাপাশি। সারা বিশ্বের যে কোন রান্নাঘরে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মশলাগুলির মধ্যে একটি। আসলে, আদার মশলাদার এবং সতেজ স্বাদটি হল অনেক বিখ্যাত রান্নার প্রধান উপকরণ। কিন্তু এই মশলার জাদু শুধুমাত্র রান্নাঘরেই আবদ্ধ নয়।

হাজারো বছর ধরে আদা একটি নিরাময়কারী প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে আয়ুর্বেদিক, ইউনানী এবং সিদ্ধা চিকিৎসায়। এটি সর্বোত্তম গাছড়াগুলির মধ্যে একটি যা বমি ভাব, বমি, গ্যাস, স্থুলতা কমাতে ব্যবহার করা হয়। আদা চা ভারতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জনপ্রিয় পানীয় এটির শরীরের ওপর উষ্ণতা এবং উদ্দীপক প্রভাবের জন্য। শরৎ ঋতুতে আবির্ভূত হয়ে এটি জিঞ্জারব্রেড ক্যান্ডি এবং সজ্জা বড়দিনের স্বাদ এবং সজ্জার বেশিরভাগ জুড়ে থাকে।

আদা শব্দটি আসে সংস্কৃত শব্দ শৃঙ্গভরম থেকে যা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় “শিং মূল”। এটি সম্ভবত ব্যাখ্যা করে আদার গঠনকে।

জানতেন কি?

আদা, যেটি জনপ্রিয় আদার মূল নামে, আসলে একটি মৌলকাণ্ড বা পরিবর্তিত কাণ্ড। আপনি হয়তো জানলে আগ্রহী হবেন যে 14ই শতাব্দীতে এক পাউন্ড আদা আর একটি ভেড়ার মান সমান ধরা হত। আজ পর্যন্ত আদাকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান পণ্য বলে মনে করা হয় এটির ঔষধীয় গুণ এবং রন্ধন মূল্যের জন্য।

আদার ব্যপারে কিছু মৌলিক তথ্যঃ

  • বোটানিকাল নামঃ জিঙ্গিবার অফিসিনালি
  • পরিবারঃ জিঙ্গিবেরাসি
  • প্রচলিত নামঃ আদা, আসল আদা, আদ্রাক
  • সংস্কৃত নামঃ আদ্রাক
  • ব্যবহৃত অংশঃ কাণ্ড
  • স্থানীয় অঞ্চল এবং ভৌগলিক বণ্টনঃ আদা এশিয়ার গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলগুলির স্থানীয়। এটি ভারত, আফ্রিকা এবং আমেরিকার কিছু অংশে ব্যপকভাবে চাষ করা হয়।
  • কর্মশক্তিঃ উষ্ণায়ন
  1. আদার পুষ্টিগুনের তথ্য - Ginger nutrition facts in Bengali
  2. আদার স্বাস্থপকারিতা - Ginger health benefits in Bengali
  3. কিভাবে ব্যবহার করবেন আদা - How to use ginger in Bengali
  4. এক দিনে কতটা আদা খাওয়া যেতে পারে - How much ginger can be taken per day in Bengali
  5. আদার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Ginger side effects in Bengali

প্রতি 100গ্রা কাঁচা আদার পুষ্টিগুণের মান নিম্নলিখিতঃ

বিবরণ পরিমাণ
জল 78.9 গ্রা
কার্বোহাইড্রেট 17.7গ্রা
ফাইবার 2 গ্রা
প্রোটিন 1.8 গ্রা
চর্বি 0.75 গ্রা
ক্যালসিয়াম 16 মিগ্রা
ম্যাগনেসিয়াম 43 মিগ্রা
পটাসিয়াম 415 মিগ্রা
ভিটামিন সি 5 মিগ্রা

 শক্তি: 80 কিক্যাল

আদা হল এক ধরণের ঔষধীয় সুপারখাদ্য শরীরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপের জন্য। এই আয়ুর্বেদিক বিস্ময়টির সমস্ত স্বাস্থ্যগুণ এক হাতে গোনা মুশকিল।

এটি একটি অ্যান্টিমেটিক (বমিভাব এবং বমি থামায়) কাশি-বিরোধী (কাশি দমনকারী) প্রদাহ-বিরোধী, জীবাণু-বিরোধী এবং একটি দুর্দান্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। উপরন্তু, আদার হাইপোগ্লাইসেমিক (রক্তে শর্করাভাব কমায়) এবং হাইপোলিপিডেমিক (কোলেস্টেরল কমায়) প্রভাব হৃদয়ের স্বাস্থের জন্য খুবই উপকারী হিসেবে পাওয়া গেছে। বিস্তারিত কথায় না গিয়ে আদার কিছু প্রমাণ-ভিত্তিক স্বাস্থপকারিতার বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

  • বমিভাব কমায়ঃ বমিভাব এবং বমির সবচেয়ে ভাল নিরাময়গুলির মধ্যে একটি হল আদা। এটি শুধুমাত্র গর্ভাবস্থার সময় বমিভাব কমায় এবং গতির কারণে হওয়া অসুস্থতা কমায় তা নয়, এটি অস্ত্রোপচার পরবর্তী এবং কেমোথেরাপি প্রবর্তিত বমিভাবের বিরুদ্ধেও কার্যকর।
  • ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ প্রথাগতভাবে ওজন কমাতে কার্যকর আদা। এটি এখন বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত যে এই গাছড়াটি খিদে দমন করে, লিপিড পরিপাকে হস্তক্ষেপ করে, এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে ওজন কমানো উন্নীত করে তোলে।
  • কাশি এবং ঠাণ্ডা লাগার জন্যঃ আদা শরীরে পিত্ত বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে জ্বর এবং ঠাণ্ডা লাগা কমে যায়। এটি জীবাণু-বিরোধী এবং সক্রিয় উপাদান দিয়ে মধ্যস্থতা করে যার ফলে কাশি কমতে দেখা গেছে।
  • হজম উন্নত করেঃ আদা পরিচিত হজম উন্নত করার জন্য এবং অন্ত্র থেকে খাবার শুষে নেওয়ার জন্য। এটি স্থুলতা এবং পাকস্থলীর গ্যাসও কমায়।
  • মহিলাদের জন্য উপকারিতাঃ মাসিকের সময় হওয়া সংকুচনের সবচেয়ে ভাল নিরাময়গুলির মধ্যে একটি হল আদা। গবেষণা প্রমাণ করে যে ঋতুস্রাবের আগের 3দিন এবং প্রথম 2দিন আদা খেলে মাসিকের ব্যথায় আরাম পাওয়া যাবে। ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহও কমায়।
  • রক্তচাপ কমায়ঃ আদা একটি হাইপোটেনসিভ (রক্তচাপ কমায়) হিসেবে ব্যবহৃত হয় আয়ুর্বেদিক ওষুধে। ধমনীতে এটি একটি আরামদায়ক প্রভাব দেয় বলেও জানা গেছে, যার ফলে রক্তচাপ কমে।

আদা সাধারণত বিভিন্ন এশিয় প্রণালীতে ব্যবহার হয় একটি মশলা এবং সুস্বাদু করার প্রতিনিধি হিসেবে। আদার সুগন্ধি স্বাদ জিঞ্জারব্রেড, পাই, কেক এবং আদা ভিত্তিক মিষ্টান্নের চরিত্রগত ব্যপার। এটি আদার সুরাতেও প্রধান সুস্বাদ্য করার মশলা।

আদার তেল ব্যবহার করা হয় ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় প্রদাহ এবং সংক্রমণ আটকাতে।

আদার পাউডার অন্যতম উপকরণ গরম মশলা, ভারতের বিখ্যাত মশলার মিশ্রণ তৈরি করার। এটি ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন রান্না এবং পানাক্কামের মত বিভিন্ন (গুড় এবং শুকনো আদা সহযোগে তৈরি করা ভারতীয় পানীয়) পানীয়ে একটি স্বতন্ত্র মশলাদার স্বাদ যোগ করার জন্য।

আদার ক্যাপসুল এবং ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সমস্যার চিকিৎসার জন্য।

কিভাবে বানাবেন আদা জল

আদা জল বা আদা চা হয়ত সবচেয়ে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত ঘরোয়া প্রতিকার হজমের অস্বস্তির বিরুদ্ধে। আদা, লেবু এবং মধু দিয়ে তৈরি চা ওজন কমানোর জন্যেও ব্যবহার করা হয়। কার্যত, প্রচুর জনপ্রিয় ব্র্যান্ড মধু আদা চা বা লেবু, আদা এবং মধু চায়ের নিজস্ব প্রকার চালু করেছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী আদা এবং গ্রিন টিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্রিয়াকলাপ অনেক বেশি শক্তিশালী হয় এগুলির একক প্রকারের চেয়ে। এই হল আদা জলের একটি সহজ প্রণালীঃ

  • একটি পাত্রে 2 কাপ জল ফোটান।
  • ফুটন্ত জলে এক টুকরো আদা দিন।
  • সিম আঁচে 5-6 মিনিট ফুটতে দিন।
  • পাত্রটি স্টোভ থেকে সরিয়ে নিন, ছেঁকে নিন, এবং গরম থাকতে খান।

এই আদা জলে আপনি মধু আর লেবু যোগ করতে পারেন আরও সুস্বাদু করে তুলতে এবং আপনার আদা চায়ের অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যকে বাড়িয়ে তুলতে।

আদার পাউডার প্রতিদিন 1-3গ্রাম ডোজে ব্যবহার করা হয়েছে কিছু ক্লিনিকাল গবেষণায় কোন উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া। আদার সঠিক ডোজ একজন ব্যক্তির শরীরের ধরণ এবং লক্ষণগুলির ওপর নির্ভর করবে।

  • আদা একটি প্রাকৃতিক উষ্ণায়নকারী গাছড়া, টাই অতিরিক্ত সেবন অম্বল, ডায়রিয়া বা অন্যান্য পাকস্থলী সম্পর্কিত সমস্যার রূপ নিতে পারে।
  • গবেষণা প্রস্তাবিত করে যে আদা রক্তচাপ কমায়। সুতরাং যাদের রক্তচাপ এমনিতেই কম বা যদি আপনি রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খাচ্ছেন, তাহলে আদা এড়িয়ে চলাই ভাল।
  • আপনি যদি অন্য কোন ধরণের ওষুধ খান, তাহলে যেকোনো আকারে আদা খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া ভাল।
  • আদা গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রাতঃকালীন অসুস্থতার লক্ষণগুলি দূর করে বলে দেখা গেছে তবে গর্ভাবস্থার সময় মাঝারি পরিমাণে আদা খাওাই ভাল।
और पढ़ें ...