myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

মধু হল একটি মিষ্টি, আঠালো তরল যা তৈরি হয় ফুলের পীযূষে। সারা বিশ্বে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার হিসাবে গণ্য হওয়া মধু হল এক আশ্চর্যজনক মিশ্রণ যার প্রচুর ঔষধিগুণ রয়েছে। এটি ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয় মিষ্টিকারক হিসেবে। আসলে, 18ই শতাব্দীর আন্তর্মহাদেশীয় বাণিজ্য আসা পর্যন্ত চিনি অনুপস্থিত ছিল, যার ফলে আখের চিনি পাওয়া যেত।

মৌমাছি আফ্রিকায় উদ্ভূত হয়েছে বলে মনে করা হয়, কিন্তু তাদের অস্তিত্ব গত 10 কোটি বছর ধরে আছে বলেও বিশ্বাস করা হয়। তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে বিশ্বের প্রতিটি অংশে মধু ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রায় সব প্রাচীন সভ্যতার পৌরাণিক কাহিনী এবং ধর্মগ্রন্থে মধুর উল্লেখ আছে। এর পুষ্টিদায়ক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে বাইবেলে এবং একটি নিরাময়কারী পানীয় হিসেবে উল্লেখ আছে কোরানে। মধু আয়ুর্বেদে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে এর প্রচুর নিরাময়কারী উপকারিতার জন্য। আধুনিক বিজ্ঞানও সম্মতি জানায় মধুর অসংখ্য গুনের ব্যাপারে। অবাক হওয়ার কোন কারণ নেই একে “ঈশ্বরদের খাবার” বলা হলে।

প্রাকৃতিক মধু তার রঙ অনুযায়ী বিভাজিত হয়- পরিষ্কার, সোনালি রঙ খুচরো বাজারে বেশি দর হাঁকে গাঢ় রঙের চেয়ে। তুলনামূলক ভাবে হালকা রঙের মধু সাধারণত স্বাদেও হালকা এবং বেশি মিষ্টি হয়ে থাকে গাঢ় রঙের মধুর থেকে, যেগুলির স্বাদ হয় কড়া।

মধু দুই ধরনের উপলব্ধ-কাঁচা এবং প্রক্রিয়াজাত। কাঁচা মধুতে থাকে এনজাইম, পরাগরেণু এবং অন্যান্য খুদ্রপুষ্টিগুণ যেগুলি সাধারণত পরিস্রুত বা তাপ দিয়ে বিনষ্ট করে দেওয়া হয় যখন মধুর প্রক্রিয়াকরণ হয়। কাঁচা মধু খুব তাড়াতাড়ি স্ফটিকে পরিণত হয় অপরিস্রুত হওয়ার কারণে। অন্য দিকে, প্রক্রিয়াজাত মধু অনেক বেশিক্ষণ তরল অবস্থায় থাকে।

কোন বাজারে বিক্রয় করা হবে তার ওপর ভিত্তি করে মধু ছোট পাত্রে ভরা যেতে পারে খুচরো হিসেবে বিক্রয় করার জন্য বা বড় ড্রামে ভরা যেতে পারে সঞ্চয় করে রাখার জন্য বা রফতানি করার জন্য। বিভিন্ন ধরণের খরিদ্দারের কথা মাথায় রেখে, মধু বিভিন্ন প্রকার এবং আকারের পাত্রে ভরা হয়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে কাঁচের শিশি, প্লাস্টিকের গামলা বা নিষ্পেষিত করা যায় সেরকম বোতল।

জানতেন কি?

মধুর গন্ধ, স্বাদ, বিন্যাস এবং বৈশিষ্ট্য যেই ফুলের রেনু থেকে নেওয়া হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। ফুলের অনন্য সুবাস এবং স্বাদ মধুতে পরিবেষ্টিত হয়। মধুর স্বাদ, বিন্যাস এবং ধরণ একই দেশের ভিন্ন জায়গার অনুপাতে পরিবর্তিত হতে থাকে।  

মধুর ব্যপারে কিছু মৌলিক তথ্যঃ

  • প্রচলিত নামঃ শেহেদ (হিন্দি) , মধু
  • সংস্কৃত নামঃ মাধু
  • স্থানীয় অঞ্চল এবং ভৌগলিক বণ্টনঃ মধুর প্রধান উৎপাদক হল চিন, তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ভারত।
  • মজাদার তথ্যঃ বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে, মধু আজীবন তাকে থাকার মত একটি শাশ্বত বস্তু। এটি কখনই নষ্ট হয়ে যায় না।
  1. মধুর পুষ্টিগত তথ্য - Honey nutrition facts in Bengali
  2. ডায়বিটিসে আক্রান্তদের জন্য মধু - Honey health benefits in Bengali
  3. ক্ষত নিরাময় করার জন্য মধু - Honey side effects in Bengali
  4. হাঁপানির জন্য মধু - Takeaway in Bengali

মধুতে রয়েছে সরল কার্বোহাইড্রেট এবং প্রাকৃতিক চিনি। এই চিনি বেশিরভাগটাই হল গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজ। ফ্রুকটোজ থাকার দরুন এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি লাগে বেশি। মধু হল চর্বিহীন এবং কোলেস্টেরলহীন। মধু গ্লাইসেমিক সূচকেও নিম্নস্থান অধিকার করে, অর্থাৎ মধুতে থাকা কার্বোহাইড্রেট আস্তে আস্তে ভাঙে এবং এতে আপনার রক্তে থাকা শর্করাভাব উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়না।

ইউএসডিএ পুষ্টির ডাটাবেস অনুযায়ী, নিচের তালিকাটি প্রত্যেক 100 গ্রা মধুতে থাকা পুষ্টিগুনের বর্ণনা দেয়।

পুষ্টিগুণ মুল্য প্রতি 100 গ্রা
জল 17.1 গ্রা
শক্তি 304 কিক্যাল
প্রোটিন 0.3 গ্রা
কার্বোহাইড্রেট 82.4 গ্রা
ফাইবার 0.2 গ্রা
চিনি 82.12 গ্রা
খনিজ বস্তু  
ক্যালসিয়াম 6 মিগ্রা
লোহা 0.42 মিগ্রা
ম্যাগনেসিয়াম 2 মিগ্রা
ফসফরাস 4 মিগ্রা
পটাসিয়াম 52 মিগ্রা
সোডিয়াম 4 মিগ্রা
জিঙ্ক 0.22 মিগ্রা
ভিটামিন  
ভিটামিন বি2 0.038 মিগ্রা
ভিটামিন বি3 0.121 মিগ্রা
ভিটামিন বি6 0.024 মিগ্রা
ভিটামিন বি9 2 µগ্রা
ভিটামিন সি 0.5 মিগ্রা

পুষ্টিগুণ আর স্বাস্থপকারিতার ব্যপার যখন আসে মধুকে তখন যথার্থভাবেই তরল সোনা বলা যায়। মধুর কিছু স্বাস্থপকারিতার বিষয়ে খতিয়ে দেখা যাক যা এটিকে একটি বিস্ময়কর খাবার বানিয়ে তোলে।

  • ক্ষত সারায়ঃ মধু হল একটি প্রাকৃতিক ক্ষয় নিরাময়কারী প্রতিনিধি। এটি ক্ষত বন্ধ হওয়া উন্নত করে এবং চোট লাগা জায়গায় সংক্রমণ হওয়া আটকায়। মধুর প্রলেপ লাগালে জ্বালা কমাতে সাহায্য করে এবং খোলা ক্ষত এবং পুড়ে যাওয়া ক্ষতর ফুলে ওঠা আটকায়।
  • হাঁপানির লক্ষণ উন্নত করেঃ মধুর ঘ্রান নিলে মিউকাসের অতিরিক্ত নিঃসরণ কমে যার ফলে হাঁপানি আক্রান্ত লোকেদের মধ্যে কাশিও কমে। মধু শ্বাসনালীর প্রদাহ কমায় এবং হাঁপানির বিরুদ্ধে লক্ষণগত পরিত্রাণ দেয়।
  • রক্তে শর্করাভাব নিয়ন্ত্রণ করেঃ মধুর গ্লাইসেমিক সূচক অত্যন্ত নিম্ন (রক্তে শর্করাভাব উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ায় না) এবং সেইজন্য এটি চিনির একটি দুর্দান্ত বিকল্প ডায়বিটিসে আক্রান্ত লোকেদের জন্যে। আসলে, এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে মধু রক্তে শর্করাভাব কমায় ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে।
  • পাকস্থলীর অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ঃ মধুর একটি সুরক্ষাকারী প্রভাব রয়েছে পাকস্থলীর আস্তরণের ওপর, মিউকাসের বাঁধা উন্নত করে, প্রদাহ কমায়, গ্যাস্ট্রিক মিউকসাতে ব্যাকটেরিয়ার আটকে থাকা রোধ করে, যার ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। মধু সেবন করলে বাচ্ছাদের মধ্যে গ্যাসট্রোএনটেরাটাইটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
  • চুল এবং মাথার ত্বকের উপকারিতাঃ মধুর একটি আর্দ্রকারী এবং পুষ্টিদায়ী প্রভাব রয়েছে চুল এবং মাথার ত্বকের ওপর, যা রুক্ষতা দূর করে এবং আপনার চুলকে আরও চকচকে এবং লম্বা দেখায়। ক্লিনিকাল গবেষণা ইঙ্গিত করে যে নিয়মিত ম্যাসেজ করলে খুশকি এবং মাথার ত্বকে চুলকানিপ্রবন অংশগুলি দূর হয়।
  1. মধুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Honey benefits for stomach problems in Bengali
  2. মস্তিষ্কের জন্য মধুর উপকারিতা - Honey for healing wounds in Bengali
  3. মধু কোলেস্টেরল কমায় - Honey for asthma in Bengali
  4. ডায়বিটিসের জন্য মধু - Honey for hangover in Bengali
  5. হৃদয়ের জন্য মধু - Honey benefits for hair in Bengali
  6. পেটের সমস্যায় মধুর উপকারিতা - Honey benefits for diabetics in Bengali
  7. পুষ্টির উৎস হিসেবে মধু - Honey prevents cancer in Bengali

মধুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Honey benefits for stomach problems in Bengali

গ্যাসট্রোইন্টেসটিনাল ব্যবস্থায় মধুর প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। প্রথাগতভাবে মধু হজমের জন্য ভাল বলে মনে করা হয়। একটি গবেষণা দেখায় যে মধু পেটের ফ্লু (গ্যাসট্রোএনটেরাটাইটিস) সারাতে সাহায্য করে। এটি ডাইরিয়াও প্রতিরোধ করে।

এমন দেখা গেছে যে এটি অন্ত্রের দেওয়ালে ব্যাকটেরিয়া আটকে থাকা দমন করে, যেটি পাকস্থলীতে সংক্রমণ হওয়া আটকাতে সহায়ক। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা প্রদর্শন করে যে মধুতে একটি আলসার বিরোধী সম্ভাব্যতা রয়েছে যেটি ফ্রি র‍্যাডিকাল এবং প্রদাহজনক সাইটোকাইন কমায় মিউকসাল বাধা উন্নত করে।

ক্লিনিকাল গবেষণা দাবি করে যে মধু অ্যাপপটোসিস (কোষ-মৃত্যু) প্রবর্তিত করে গ্যাস্ট্রিক মিউকসাতে (পাকস্থলীর ভিতরের আস্তরণ) গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকি কমায়।

মস্তিষ্কের জন্য মধুর উপকারিতা - Honey for healing wounds in Bengali

যত্ন নেওয়া হলে ক্ষত সাধারণত সারতে বেশিক্ষণ সময় নেয় না। তবে গভীরভাবে হওয়া ক্ষত সারতে সময় লাগতে পারে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, মধুর উল্লেখযোগ্য ক্ষয় নিরাময়কারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। 10 জন আহত ব্যক্তিদের ওপর হওয়া একটি গবেষণাতে দেখা গেছে যে মধুর সাময়িক ব্যবহার নিরাময় পদ্ধতি উন্নত করে তোলে। এর কারণে ব্যথা এবং ফুলে যাওয়া 80% কম হতে দেখা যায়। মধুর ব্যাকটেরিয়া বিরোধী এবং প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য এই নিরাময়কারী উপকারিতার জন্য দায়ী। এটি ক্ষত পরিষ্কার এবং আর্দ্র রাখে ফাইব্রিন উৎপাদন উন্নত করে যেটি চামড়ার পুনর্জন্ম এবং গঠনে সহায়তা করে ক্ষত জায়গায় মসৃণ এবং নরম চামড়া গজিয়ে।

ক্লিনিকাল প্রমাণ প্রস্তাবিত করে যে মধু পুড়ে যাওয়া ঘাও সারায়। একটি ক্লিনিকাল গবেষণায় 50 জন লোকের পুড়ে যাওয়া ঘাতে মধুর প্রলেপ দেওয়া হয়। চিকিৎসার এক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিরাময় দেখা যায়। এই গবেষণাটি এও প্রকাশিত করে যে মধু ব্যবহার করার ফলে ক্ষত জায়গায় সংক্রমণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। 

মধু কোলেস্টেরল কমায় - Honey for asthma in Bengali

অ্যাস্থমা হল একটি প্রদাহজনক অবস্থা যেখানে শ্বাসনালী সঙ্কুচিত হয়ে যায় যার ফলে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অ্যাস্থমা আক্রান্ত লোকজন প্রায়ই কাশি (বিশেষত রাতে), নিঃশ্বাসের সাথে শিসের শব্দ, এবং বুকের ব্যথা অনুভব করেন। মধু বহুকাল ধরে ঠাণ্ডা লাগা এবং কাশি সারাতে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাক-ক্লিনিকাল গবেষণা ইঙ্গিত করে যে মধু অ্যাস্থমার লক্ষণগুলির নিরাময় করতে কার্যকর। মধুর ঘ্রাণ নিলে তা পানপাত্র কোষের অতিরিক্ত বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে যেগুলি মিউকাস নিঃসরণ করার জন্য দায়ী।

উপরন্তু, মধুর কিছু প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অ্যাস্থমার কারণে হওয়া প্রদাহ কমিয়ে সাময়িক আরাম দেয়। যদিও কোন ক্লিনিকাল গবেষণা এখনও হয়নি মানুষের ক্ষেত্রে এইসব প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা বিচার করার জন্য।

ডায়বিটিসের জন্য মধু - Honey for hangover in Bengali

হ্যাংওভার বলা হয় এক গুচ্ছ অস্বাচ্ছন্দকর লক্ষণের সমষ্টি যা অত্যাধিক মদ্যপানের সঙ্গে জড়িত। সাধারণ লক্ষণগুলি হল মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, তন্দ্রাভাব, নিরূদনের অনুভব যা একেক সময় 24 ঘণ্টা অবধি চলতে পারে। গবেষণা ইঙ্গিত করে যে মধুর কিছু নেশা বিরোধী প্রভাব থাকতে পারে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর।

একটি প্রাক-ক্লিনিকাল গবেষণা প্রদর্শন করে যে মৌখিক ভাবে মধুর সেবন হ্যাংওভার প্রতিরোধ করতে পারে। এই প্রভাবের কারণ হিসেবে ধরা হয় মধুতে থাকা ফ্রুকটোসকে। এই ধরণের চিনি গ্যাসট্রোইনটেসটিনাল ট্র্যাক্টে মদের শোষণ আটকায় এবং শরীর থেকে মধ বের করে দিয়ে হ্যাংওভারের লক্ষণ দূর করে।

হৃদয়ের জন্য মধু - Honey benefits for hair in Bengali

মধু হল একটি দুর্দান্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আর্দ্রকারী, অর্থাৎ যেই বস্তুটি আপনার মাথার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ফ্রি র্যা ডিকাল থেকে হওয়া ক্ষতি কমিয়ে আপনার চুলে একটি প্রাণবন্ত দীপ্তি প্রদান করে। উপশমকারী হিসেবে এটি আপনার মাথার ত্বক এবং চুল প্রশমিত এবং নরম করে তোলে। মধু দিয়ে বাড়িতে তৈরি করা মাস্ক ব্যবহার করে নরম এবং চকচকে চুল পেতে কে না চায়?

সেভোরিক ডারমাটাইটিস হল একটি অবস্থা যা মাথার ত্বককে প্রভাবিত করে। এর সাধারণ লক্ষণগুলি হল খুশকি, রুক্ষ অংশ এবং মাথার ত্বকের লাল হয়ে যাওয়া। যদিও এই অবস্থা মুখের কিছু অংশ, ছাতি, এবং ভ্রুয়ের কিছু অংশকেও প্রভাবিত করতে পারে। 30জনের ওপর করা একটি গবেষণা প্রস্তাবিত করে যে দৈনিক কিছুক্ষন মাথা মধু দিয়ে ম্যাসেজ করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুলকানি প্রতিরোধ করা যেতে পারে, রুক্ষ অংশগুলি দূরীভূত হতে পারে। চুল পড়া এবং ত্বকের ক্ষতও প্রতিরোধ করে এটি। যেইসব লোকে এই গবেষণার পরেও সপ্তাহে একবার করে 6 মাস মাথা ম্যাসেজ করে গেছেন, তারা বিশেষ কিছু জানাননি, কিন্তু যারা প্রথম তিন মাসের পর থেমে যান, তারা এই সমস্যার আবার ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন। এই গবেষণাটির উপসংহারে বলা হয়েছে যে মধুর সাপ্তাহিক ব্যবহার সেভোরিক ডারমাটাইটিসের লক্ষণগুলি কমাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

(আরও পড়ুনঃ কি করে চুল পড়া কমাবেন)

পেটের সমস্যায় মধুর উপকারিতা - Honey benefits for diabetics in Bengali

এটি একটি খুবই প্রচলিত ভুল ধারণা যে মধু ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সুরক্ষিত নয়। কিন্তু গবেষণা প্রমাণ করে যে মধু একটি ডায়বিটিস বিরোধী প্রতিনিধি যা সঠিকভাবে ডায়বিটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন প্রাক-ক্লিনিকাল গবেষণা ইঙ্গিত করে যে সম্পূরক হিসেবে মধু ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায় রক্তে শর্করাভাবের পরিমাণ কমায়। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা দেখায় যে মধুতে থাকা ফ্রুকটোস দায়ী এর ডায়বিটিস-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্যে।

আরেকটি গবেষণা অনুযায়ী, মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য একে অক্সিডেটিভ চাপের বিরুদ্ধে কার্যকর করে তোলে, যার ফলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে উচ্চ শর্করাভাব) সারাতে এর সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি পায়। মধু গ্লাইসেমিক সূচকে নিম্নস্থান অধিকার করে চিনির তুলনায়। যার মাআনে হল মধু রক্তে শর্করাভাব বাড়াতে অনেক বেশি সময় নেয়।

(আরও পড়ুনঃ ডায়বিটিসের লক্ষণ)

পুষ্টির উৎস হিসেবে মধু - Honey prevents cancer in Bengali

ক্যানসার বলতে বোঝায় প্রাকৃতিক দেহকোষের অস্বাভাবিক বিস্তারকে। বিভিন্ন ঝুঁকির উপাদান এর প্রাদুর্ভাবের সাথে যুক্ত করা হয় যেমন জীবনধারা (ধূমপান, মদ্যপান, দুরারোগ্য রোগ, প্রদাহ বা প্রজননশাস্ত্র। আশ্চর্যজনকভাবে, মধু এই সবগুলির বিরুদ্ধে একটি পাল্টা চিকিৎসা। এটি সবচেয়ে বিশিষ্ট ক্যানসারবিরোধী যৌগগুলির ভাণ্ডার যার মধ্যে রয়েছে ক্যাটচিন, ফ্ল্যাভোনয়েড, কোয়ারসেটিন এবং কেমফেরোল। এবং এটিই চূড়ান্ত তালিকা নয়।

প্রমাণ-ভিত্তিক পরিপূরক ও বিকল্প ঔষধে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ অনুযায়ী মধু হল ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক টীকা। এইভাবেঃ

  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে এটি ফ্রি র‍্যাডিকাল খুঁজে বের করে যেটি ক্যানসারের বেড়ে ওঠাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। মদ্যপান, ধূমপান এবং চাপ হল কয়েকটি সাধারণ কারণ জীবনধারা সম্পর্কিত কিছু উপাদান যা ফ্রি র‍্যাডিকালের জমে ওঠা আটকায়।
  • মধু হল একটি দুর্দান্ত জীবাণু-প্রতিরোধী, যা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের বেড়ে উঠে টিউমার বা ক্যানসারে রূপান্তরিত হওয়া আটকায়।
  • মধু ক্ষত নিরাময় করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের আস্তরণের (ভিতরের আস্তরণ এবং এপিথিলিয়াম উভয়েরই) ক্ষতি হওয়া থেকে আটকায় এবং এইভাবে দীর্ঘকালীন ক্ষত যেগুলি ক্যানসারে রূপান্তরিত হওয়ার প্রবনতা দেখায়, সেগুলিকে আটকায়।
  • দীর্ঘকালীন প্রদাহ ক্যানসারের আরেকটি ঝুঁকির কারণ। প্রদাহ-বিরোধী প্রতিনিধি হিসেবে মধু নিশ্চিত করে যে সেরকম কোন প্রদাহ যাতে ক্যানসারে রূপান্তরিত না হয়।
  • মধুতে ফ্রুকটোসের মাত্রা থাকে বেশি যা অন্ত্রে শোষিত হয়না। স্বাস্থ্যবান লোকেদের যদিও এটি কোন ভীতির কারণ নয়, তবুও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যার লক্ষণগুলি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। এইসব অবস্থা থেকে ভুগলে, মধু এড়িয়ে যাওয়া আপনার জন্য শ্রেয় অথবা একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে আপনার ক্ষেত্রে সঠিক ডোজ জানতে।
  • গ্রেয়ানোটক্সিন হল এরিকাসি পরিবারের অন্তর্গত গাছে থাকা স্নায়বিক বিষ। এই গাছ থেকে তৈরি করা মধুতে এই বিষাক্ত পদার্থ থাকে এবং এটি পরিচিত পাগল মধু হিসেবে। এই মধু সেবন করলে রক্তের নিম্নচাপ, হৃৎপিণ্ডের ছন্দপতন, বমি বমি ভাব, ঘেমে যাওয়া এবং তন্দ্রাভাবের মত লক্ষণ দেখা দেয়।
  • এরকম প্রচুর গবেষণা হয়েছে যেগুলি প্রস্তাবিত করে যে এক বছরের নিচের শিশুদের মধু মধু খাওয়ালে বটুলিজমের আকার নেয়। এটি বাচ্ছাদের খাবার সুস্বাদু করার প্রতিনিধি হিসেবেও ব্যবহার না করা সুপারিশ করা হয়।   

মধু হল সবচেয়ে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হওয়া মিষ্টিকারকগুলির একটি। এর প্রচুর স্বাস্থপকারিতা রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, পলিফেনল এবং অন্যান্য ভিটামিন এবং খনিজ বস্তুথাকার দরুন। এর প্রদাহবিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ক্যানসার প্রতিরোধ করে, গ্যাসট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যা এবং অ্যাস্থমা নিরাময় করে। এর জীবাণুবিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি তাড়াতাড়ি ক্ষত নিরাময় করে। এটি ডায়বিটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে কারণ এর গ্লাইসেমিক সূচক তুলনামূলক ভাবে চিনির থেকে কম। 12 মাসের কম বয়সী বাচ্ছাদের মধু কখনই দেওয়া উচিৎ নয় এবং এটি কোন বিশ্বস্ত সরবরাহকারীর থেকে কেনা উচিৎ যেহেতু কিছু ধরণের মধু বিষাক্ত হয়।

और पढ़ें ...

References

  1. United States Department of Agriculture Agricultural Research Service. Basic Report: 19296, Honey. National Nutrient Database for Standard Reference Legacy Release [Internet]
  2. Saeed Samarghandian, Tahereh Farkhondeh, Fariborz Samini. Honey and Health: A Review of Recent Clinical Research. Pharmacognosy Res. 2017 Apr-Jun; 9(2): 121–127. PMID: 28539734
  3. Obi CL, Ugoji EO, Edun SA, Lawal SF, Anyiwo CE. The antibacterial effect of honey on diarrhoea causing bacterial agents isolated in Lagos, Nigeria. Afr J Med Med Sci. 1994 Sep;23(3):257-60. PMID: 7604751
  4. Tahereh Eteraf-Oskouei, Moslem Najafi. Traditional and Modern Uses of Natural Honey in Human Diseases: A Review Iran J Basic Med Sci. 2013 Jun; 16(6): 731–742. PMID: 23997898
  5. Alnaqdy A, Al-Jabri A, Al Mahrooqi Z, Nzeako B, Nsanze H. Inhibition effect of honey on the adherence of Salmonella to intestinal epithelial cells in vitro. Int J Food Microbiol. 2005 Sep 15;103(3):347-51. PMID: 16099316
  6. Almasaudi SB et al. Antioxidant, Anti-inflammatory, and Antiulcer Potential of Manuka Honey against Gastric Ulcer in Rats. Oxid Med Cell Longev. 2016;2016:3643824. PMID: 26770649
  7. Aida Ghaffari, Mohammad H Somi, Abdolrasoul Safaiyan, Jabiz Modaresi, Alireza Ostadrahimi. Honey and Apoptosis in Human Gastric Mucosa. Health Promot Perspect. 2012; 2(1): 53–59. PMID: 24688918
  8. Kumari K. Vijaya, K. Nishteswar. Wound healing activity of honey: A pilot study. Ayu. 2012 Jul-Sep; 33(3): 374–377. PMID: 23723644
  9. Nurfatin Asyikhin Kamaruzaman, Siti Amrah Sulaiman, Gurjeet Kaur, Badrul Yahaya. Inhalation of honey reduces airway inflammation and histopathological changes in a rabbit model of ovalbumin-induced chronic asthma. BMC Complement Altern Med. 2014; 14: 176. PMID: 24886260
  10. Al-Waili NS. Therapeutic and prophylactic effects of crude honey on chronic seborrheic dermatitis and dandruff. Eur J Med Res. 2001 Jul 30;6(7):306-8. PMID: 11485891
  11. Otilia Bobiş, Daniel S. Dezmirean, Adela Ramona Moise. Honey and Diabetes: The Importance of Natural Simple Sugars in Diet for Preventing and Treating Different Type of Diabetes. Oxid Med Cell Longev. 2018; 2018: 4757893. PMID: 29507651
  12. Health Harvard Publishing, Updated: March 14, 2018. Harvard Medical School [Internet]. Glycemic index for 60+ foods. Harvard University, Cambridge, Massachusetts.
  13. Majid M, Younis MA, Naveed AK, Shah MU, Azeem Z, Tirmizi SH. Effects of natural honey on blood glucose and lipid profile in young healthy Pakistani males. J Ayub Med Coll Abbottabad. 2013 Jul-Dec;25(3-4):44-7. PMID: 25226738
  14. Suze A. Jansen et al. Grayanotoxin Poisoning: ‘Mad Honey Disease’ and Beyond. Cardiovasc Toxicol. 2012 Sep; 12(3): 208–215. PMID: 22528814
  15. Tanzi MG, Gabay MP. Association between honey consumption and infant botulism. Pharmacotherapy. 2002 Nov;22(11):1479-83. PMID: 12432974