myUpchar प्लस+ के साथ पूरेे परिवार के हेल्थ खर्च पर भारी बचत

জীবনে সবচেয়ে কঠিন এবং বেদনাদায়ক সিদ্ধান্তগুলির অন্যতম যা একজন মহিলা অথবা এক দম্পতিকে নিতে হয় তা হল গর্ভপাত বেছে নেওয়া।

গর্ভপাত হল গর্ভাবস্থার চিকিৎসাগত পরিসমাপ্তির জন্য ব্যবহৃত পরিভাষা, যা চিকিৎসাগতভাবে অথবা অস্ত্রোপচারগতভাবে সম্পাদন করা যেতে পারে। গর্ভপাতের পদ্ধতি যা অনুসরণ করতে হবে এবং নিরাপত্তা গর্ভাবস্থার তিন মাসকালের উপর নির্ভর করে যার মধ্যে পদ্ধতিটি সম্পাদন করা হয়। যত আগে পদ্ধতিটি সম্পাদন করা যায়, ততটা কম এর জটিলতা হয়। 

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভপাত পদ্ধতি নিরাপদ কিন্তু এটার সাথে সাধারণতঃ কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যেমন প্রচণ্ড রক্তপাত, শ্রোণীদেশগত (পেলভিক) খিঁচুনি, বমি বমিভাব, এবং বমি সহগামী হয়। যাই হোক, যদি আপনি অত্যধিক রক্তক্ষয়, জ্বর, এবং চূড়ান্ত ব্যথার মত অধিকতর গম্ভীর উপসর্গগুলো লক্ষ্য করেন, আপনি অবশ্যই আপনার স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞকে অবিলম্বে জানাবেন।   

গর্ভপাত মহিলাদের ভবিষ্যৎ গর্ভধারণ বা উর্বরতায় প্রভাব ফেলে না, এবং সেজন্য, যতক্ষণ পর্যন্ত এটা একজন প্রশিক্ষিত স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত হচ্ছে এটা বেছে নেওয়া মোটেই অনিরাপদ বিকল্প নয়।

  1. গর্ভপাত কি - What is an abortion in Bengali
  2. গর্ভপাতের ধরণ - Types of abortion in Bengali
  3. গর্ভপাতের সময়সীমা - Time limit for abortion in Bengali
  4. নিরাপদ এবং অনিরাপদ গর্ভপাত - Safe and unsafe abortion in Bengali
  5. গর্ভপাতের কারণসমূহ - Causes of abortion in Bengali
  6. গর্ভপাত প্রক্রিয়া - Abortion procedure in Bengali
  7. গর্ভপাতের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া - Side effects of abortion in Bengali
  8. গর্ভপাতের ঝুঁকি বা জটিলতা - Risks or complications of abortion in Bengali
  9. গর্ভপাতের পর গর্ভধারণ করার সম্ভাবনা - Chances of getting pregnant after abortion in Bengali
  10. গর্ভপাতের বিষয়ে ভারতীয় আইন - Indian law on abortion in Bengali

কোনও গর্ভপাত গর্ভের পরিসমাপ্তির প্রতি নির্দেশ করে। এটা মহিলাটির গর্ভাশয় থেকে গর্ভস্থ ভ্রূণটির অপসারণ বা বহিষ্করণ দ্বারা সংঘটিত হয়। এটা ঘটে বা করা হয় ভ্রূণ বা গর্ভস্থ শিশুটির মৃত্যুর কারণে।

গর্ভপাত স্বাভাবিকভাবে ঘটেছে না ঘটানো হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে, এটা নীচের দুই ধরণের হয়ঃ 

স্বতঃস্ফূর্ত বা স্বাভাবিক গর্ভপাত বা গর্ভস্রাব

কোনও স্বতঃস্ফূর্ত বা কোনও স্বাভাবিক গর্ভপাত হচ্ছে যখন ভ্রূণ বা গর্ভস্থ শিশু গর্ভাবস্থার জটিলতার কারণে মারা যায়। একে সাধারণভাবে গর্ভস্রাব হিসাবে বর্ণনা করা হয়। 

সংঘটিত গর্ভপাত

একটা সংঘটিত গর্ভপাত হল সেটা যা জরায়ু থেকে শিশুটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিষ্কাশন বা অপসারণ করা হয় যা চিকিৎসাগতভাবে বা অস্ত্রোপচারগতভাবে করা হতে পারে। এটা সেইসমস্ত ক্ষেত্রে সম্পাদন করা হয় যেখানে গর্ভধারিণী মায়ের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা অথবা বেঁচে থাকায় কোনও ঝুঁকির ভয় থাকে।   

ভারতের স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক অনুসারে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (20 সপ্তাহ) পর্যন্ত কোনও গর্ভধারণ সমাপ্ত করা নিরাপদ। এই সময়ের পর কোনও গর্ভপাত করানোয় জটিলতার অত্যন্ত বেশি ঝুঁকি থাকে, যা প্রক্রিয়ার সময় অথবা পরে ঘটতে পারে।

যেমন আমরা উপরে উল্লেখ করেছি, কোনও গর্ভপাত করানো নিরাপদ হয় যখন এটা 20 সপ্তাহ আগে বা গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়-ত্রৈমাসিক পর্যন্ত সংঘটিত করা হয়। ভ্রূণটি যেমন গর্ভধারণের সাথে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক অতিক্রম করে আরও বাড়ে, সেইসময় কোনও গর্ভপাতের সাথে যুক্ত ঝুঁকি এবং জটিলতা বৃদ্ধি পায় একে অতিশয় অনিরাপদ করে। সেজন্য, ডাক্তারদের দ্বারা পরামর্শ দেওয়া হয় যে একজন মহিলার তৃতীয়-ত্রৈমাসিকে প্রবেশ করার আগে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।  

গর্ভপাতের নিরাপত্তা স্বাস্থ্য পরিচর্যার স্থান যেখানে সার্জিকাল বা মেডিক্যাল গর্ভপাত সম্পাদন করা হয়। একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তার অথবা গাইনিকোলজিস্ট যিনি গর্ভপাত পিল প্রেসক্রাইব করা বা সার্জিকাল গর্ভপাত পরিচালনা করার জন্য অনুমোদিত তাঁর দ্বারা সম্পাদিত কোনও প্রক্রিয়া প্রায়শঃ নিরাপদ হয় এবং কোনও গর্ভপাত প্রক্রিয়ার জন্য অবশ্যই একমাত্র কেন্দ্র হওয়া উচিত দেখানোর জন্য। এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ক্লিনিকটি কোনও গর্ভপাত পরিচালনা করার আগে সংক্রমণগুলির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত নির্বীজন প্রক্রিয়াগুলি অনুসরণ করে।   

কোনও স্বতঃস্ফূর্ত এবং কোনও সংঘটিত গর্ভপাতের ভিন্ন ভিন্ন কারণগুলি নীচে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

সংঘটিত গর্ভপাত

কোনও সংঘটিত গর্ভপাত সম্পাদিত হয় যখন মা এবং ডাক্তার এটার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন। সেজন্য, এটার সাথে প্রচুর ব্যক্তিগত, সামাজিক, এবং চিকিৎসাগত কারণসমূহ জড়িত থাকতে পারে। 14টা দেশে চালানো একটা সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, কোনও গর্ভপাতের প্রধান কারণগুলি হলঃ  

  • সন্তানের ব্যবধান
    যেমন ব্যাপকভাবে এটা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে দম্পতিরা দুটো গর্ভধারণের মধ্যে অন্ততঃ তিন বৎসরের একটা ব্যবধান অবশ্যই বজায় রাখবেন, মহিলারা গর্ভপাত বেছে নেন যখন তাঁরা সম্প্রতি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং ব্যবধান চাইছেন।
     
  • অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ
    কিছু মহিলা যাঁরা অনিচ্ছাকৃতভাবে গর্ভবতী হন সাধারণতঃ গর্ভপাত বেছে নেন। এধরণের গর্ভধারণ সাধারণতঃ অসুরক্ষিত যৌন সহবাস অথবা জন্মনিরোধকগুলির অকার্যকারিতার কারণে ঘটে। এটা হল সবচেয়ে দৃষ্ট কারণগুলির অন্যতম যার জন্য মহিলারা একটা সংঘটিত গর্ভপাত বেছে নেন।  
     
  • আর্থিক সমস্যা
    একটা বাচ্চা প্রতিপালন করা অনেক রকমের দায়িত্ব সঙ্গে নিয়ে আসে। একটা নিয়মিত আর্থিক উৎস যা একজন বাবা বা মা হওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করার পক্ষে যথেষ্ট, থাকা জরুরি। সেজন্য, আর্থিক সমস্যা থাকা দম্পতিরা গর্ভপাত বেছে নেন। 
     
  • পেশাগত সিদ্ধান্ত
    গর্ভধারণ একজন মহিলার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবন চূড়ান্তভাবে বদলে দেয়। কখনও কখনও তাঁর পক্ষে তাঁর পেশাগত লক্ষ্য এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা বদলানো কঠিন হয়। কোনও কোনও সময় জীবনের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, একজন মহিলা আরও পড়াশোনা অথবা চাকরি বা পেশার জন্য গর্ভপাত বেছে নেন।   
     
  • সঙ্গীর সাথে সমস্যা
    অনেক দম্পতি প্রায়ই বলেন যে তাঁরা একত্রে গর্ভধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারণ একটা বাচ্চার জন্ম দেওয়া হল একটা দুই-মুখী রাস্তা এবং এটা উভয় সঙ্গীর দায়দায়িত্ব সমানভাবে জড়িত থাকা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেখানে মহিলাদের তাঁদের সঙ্গীদের সাথে সমস্যা থাকে যেমন অসুখী বিবাহিত জীবন, গর্ভধারণের ব্যাপারে মতভেদ, আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা, অথবা বিবাহ-বিচ্ছেদ, তাঁরা গর্ভপাতের সিদ্ধান্তের দিকে যেতে বাধ্য হন। 
     
  • অত্যন্ত কম বয়স
    মেয়েরা যারা খুব কম বয়সে গর্ভবতী হন এবং কোনও গর্ভধারণ চালিয়ে যাওয়া অথবা একটা সন্তান প্রতিপালন করার মত শারীরিক অথবা মানসিক অবস্থায় থাকেন না, প্রায়ই তাঁদের ডাক্তারদের দ্বারা গর্ভপাতের জন্য পরামর্শ পান। 
     
  • বিয়ের আগে গর্ভধারণ
    বহু মেয়ে, বিশেষতঃ ভারতে, কোনও বিবাহ বন্ধনের বাইরে বা বিয়ের আগে গর্ভধারণ বহাল রাখার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত হয়না। একে কেন্দ্র করে বিশাল সামাজিক এবং ধর্মীয় নিষিদ্ধকরণ থাকে। যেসমস্ত ক্ষেত্রে মেয়েরা বিয়ের আগে গর্ভবতী হয়, অন্যান্য মানসিক ধকলের সঙ্গে (বা আঘাত) যার মধ্য দিয়ে মেয়েটিকে যেতে হয়, গর্ভপাত জোর করে করানো হয়। কিছু সংস্কৃতিতে, এটাকে লজ্জাজনক এবং ‘খারাপ চরিত্রের’ লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।    
     
  • স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
    যদি গর্ভধারণ বহাল রাখা গর্ভস্থ শিশু অথবা মায়ের প্রতি গুরুতর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঝুঁকির ভয় দেখায়, ডাক্তাররা গর্ভপাত বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন।   
     
  • পরিবার অথবা সঙ্গীদের প্রভাব
    কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় যেখানে মহিলাটি তাঁর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, অথবা পরিবারের দ্বারা প্রভাবিত হন, তিনি গর্ভপাত বেছে নেন। অতএব, এটা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে একজন প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা (কাউন্সেলর) অথবা একজন গাইনিকোলজিস্টের সাথে গর্ভধারণের বিষয় সর্বদা আলোচনা করা উচিত।
     
  • একটা ছেলে চাওয়া
    খুব কম করে বলা হলে, একটা ফৌজদারি অপরাধ যা বেশির ভাগ ভারতীয় রাজ্য এবং কিছু এশীয় দেশে ব্যাপকভাবে মানুষদের দ্বারা সংঘটিত হয় যারা একটা ছেলে পেতে পছন্দ করে। এই সিদ্ধান্ত সাধারণতঃ মায়ের অথবা এমনকি বাবার সম্মতি ছাড়া স্বেচ্ছাকৃতভাবে নেওয়া হয়।

স্বেচ্ছাকৃত গর্ভপাত

কিছু নির্দিষ্ট কারণ থাকে যাতে মহিলাটির স্বাস্থ্য প্রভাবিত হতে পারে, যেমনঃ

  • জন্মগত বা বংশগত অস্বাভাবিকতা
    বাবা-মা যাঁদের একটা সুপ্ত অথবা অজ্ঞাত (লুকানো) বংশগত অস্বাভাবিকতা থাকে তাঁরা এই জিনগুলি গর্ভস্থ শিশুতে চালান করতে পারেন যা এর বেঁচে থাকা বিসদৃশ করে।
     
  • প্রতিরোধসংক্রান্ত কারণসমূহ
    কোনও গর্ভস্রাব এই কারণেও ঘটতে পারে যখন মায়ের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গর্ভস্থ শিশুটির বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করে।
     
  • অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা পিণ্ড
    থ্রম্বোফিলিয়া হল একটা ব্যাধি যাতে প্লেসেন্টায় (গর্ভের ফুল) অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা পিণ্ড গড়ে উঠতে পারে। যার ফলে, গর্ভস্থ শিশুটিতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং এটা এর মৃত্যুর একটা কারণ হয়।
     
  • হরমোনগত ব্যাধি
    কিছু হরমোনগত ব্যাধি যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম (কম থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা), উচ্চ মাত্রার সিরাম থাইরয়েড অ্যান্টিবডিজ, এবং থাইরয়েড অ্যান্টিবডিগুলির অবিদ্যমানতা কিন্তু একটা উত্থিত সিরাম (টিএসএইচ) থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন, এবং পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম) গর্ভস্রাবের সাথে জড়িত বলে দেখা গেছে।   
     
  • ত্রুটিযুক্ত ভ্রূণ নির্বাচন
    যদি ভ্রূণটা ত্রুটিযুক্ত হয় অথবা একটা নগণ্য গুণসম্পন্ন হওয়ায় ভিতরে স্থাপনের পক্ষে কম কার্যকর হয়, গর্ভস্থ ভ্রূণটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠায় ব্যর্থ হয়, যা গর্ভস্রাবের দিকে নিয়ে যেতে পারে। 
     
  • জীবনধারা
    মহিলারা যাঁরা পুষ্টিকর খাবার খান না, মদ্যপান করেন, ধূমপান করেন, কঠোর ব্যায়াম করেন, কোনও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মানেন না অথবা খুব সামান্য থেকে কোনও শারীরিক কাজকর্ম থাকেনা, ভ্রূণটির অসম্পূর্ণ পুষ্টিগত এবং প্রতিরোধজনিত প্রয়োজনীয়তার জন্য দায়ী হতে পারে যা এটির মৃত্যু ঘটাতে পারে। 
     
  • জরায়ুগত ত্রুটিপূর্ণ গঠন
    জরায়ুর কাঠামো এবং ক্রিয়ায় ত্রুটিও মন্দ সংযুক্তি, হ্রাসপ্রাপ্ত পুষ্টির যোগান, এবং কম বর্জ্য অপসারণ ঘটাতে পারে, এবং কিছুকাল পর এর মৃত্যু ঘটানোর দিকে নিয়ে যায়। 

দুটো পন্থা আছে যার দ্বারা কোনও গর্ভপাত করানো হয় – চিকিৎসাগত এবং অস্ত্রোপচারগত। উভয় প্রক্রিয়া প্রথম ত্রৈমাসিক এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক গর্ভাবস্থার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরণের।

প্রথম ত্রৈমাসিক

গর্ভাবস্থার প্রথম তেরো সপ্তাহের মধ্যে যে গর্ভপাত সম্পাদিত হয় সেটাকে বলা হয় প্রথম-ত্রৈমাসিক গর্ভপাত। বেশির ভাগ গর্ভ প্রথম ত্রৈমাসিক কালীন সমাপ্ত করা হয় যেহেতু এটা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সমাপ্ত করার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।

  • চিকিৎসাগত গর্ভপাত
    কোনও চিকিৎসাগত গর্ভপাতের মধ্যে থাকে আপনার ডাক্তারের দ্বারা প্রেসক্রাইব করা ‘গর্ভপাত বড়ি’ নেওয়া। এই ঔষধগুলি মৌখিকভাবে নেওয়া যেতে পারে অথবা যোনির মধ্যে স্থাপন করা যেতে পারে অথবা উভয়ই। এটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনও ক্লিনিকে শরীরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করার জন্য করা হয়। যাই হোক, আপনি আপনার বাড়িতেও এইসমস্ত ঔষধ আপনার স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুসারে নিতে পারেন। 
     
  • অস্ত্রোপচারগত গর্ভপাত
    গর্ভের অস্ত্রোপচারগত সমাপ্তি সাকশন-কিউরেটেজ নামের একটা পদ্ধতির দ্বারা করা হয়। প্রক্রিয়া চলাকালীন ঘটিত যন্ত্রণার প্রতি আপনার সংবেদনশীলতা কমানোর জন্য আপনাকে একটা স্থানীয় (লোকাল) অথবা সাধারণ (জেনারেল) অ্যানাস্থিজিয়া, অথবা যন্ত্রণাহর ঔষধ (সিডেটিভস) দেওয়া হতে পারে। এই পদ্ধতিতে, আপনার সার্ভিক্স (জন্ম খাল) ঔষধ দ্বারা অথবা বর্ধক যন্ত্রপাতির সাহায্যে বড় করা হয়। যখন সার্ভিক্স যথেষ্ট বড় করা হয়, একটা সাকশন টিউব যোনির মাধ্যমে জরায়ুর মধ্যে ঢোকানো হয়। এই টিউব তারপর একটা ভ্যাকুয়ামের সাথে যুক্ত করা হয় যা জরায়ুগত দেয়াল থেকে ভ্রূণ বা গর্ভস্থ শিশুটিকে টেনে বার করতে এবং বিচ্ছিন্ন করতে সাহায্য করে।  

    একবার প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হলে, আপনার ডাক্তার বাড়িতে নিতে হবে এমন কিছু পেইনকিলারের বিধান দিতে পারেন। এটা সবচেয়ে ভাল যে আপনি প্রক্রিয়াটির দু’সপ্তাহের মধ্যে অন্ততঃ একবার আপনার ডাক্তারকে দেখান। এটা লক্ষণ দেখে নির্ণয় করতে সাহায্য করবে যে প্রক্রিয়াটির পর গর্ভস্থ শিশুটির কোনও অবশিষ্টাংশ থেকে গেছে কিনা। এটা অন্য কোনও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া অথবা সংক্রমণ চিহ্নিত করায়ও সাহায্য করবে।  

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক

যখন তেরো থেকে কুড়ি সপ্তাহের মধ্যে গর্ভ শেষ করা হয়, এটা দ্বিতীয়-ত্রৈমাসিক গর্ভপাত হিসাবে জানা যায়। ঠিক একটা প্রথম-ত্রৈমাসিক গর্ভের মত, এটা চিকিৎসাগতভাবে অথবা অস্ত্রোপচারগতভাবেও পরিচালিত করা যায়। ডাক্তাররা বলেন যে কোনও দ্বিতীয়-ত্রৈমাসিক অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত গর্ভপাতের তুলনায় অস্ত্রোপচারগত গর্ভপাতে অনেক কম জটিলতা থাকে।     

  • চিকিৎসাগত গর্ভপাত
    দ্বিতীয়-ত্রৈমাসিকে কোনও চিকিৎসাগত (মেডিক্যাল) গর্ভপাত ডাক্তারের ক্লিনিকের ভিতরে সম্পাদিত হয়। ডাক্তার আপনাকে গর্ভপাত বড়ি মৌখিকভাবে নিতে বলতে পারেন। কখনও কখনও, যোনিগত বড়ি অথবা ইন্ট্রাভেনাস (শিরার মাধ্যমে ঔষধ প্রয়োগ) ইঞ্জেকশন দেওয়া হতে পারে। এই ঔষধগুলি প্রয়োগের বারো ঘণ্টা পর তাদের প্রভাব দেখাতে শুরু করে। এই বড়িগুলির ক্রিয়ার পদ্ধতি জরায়ুগত পেশীগুলির সংকোচনের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যা গর্ভস্থ শিশুটির নিষ্কাশনের দিকে চালিত করে। আপনার ডাক্তার কিছু পেইনকিলারের বিধান দিতে পারেন কারণ দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কোনও মেডিক্যাল গর্ভপাত সাংঘাতিক খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে।    
     
  • অস্ত্রোপচারগত গর্ভপাত
    ডাইলেশন অ্যান্ড এভাক্যুয়েশন নামের একটা পদ্ধতি হচ্ছে কোনও দ্বিতীয়-ত্রৈমাসিক গর্ভ শেষ করার জন্য অস্ত্রোপচারের বিকল্প। এই প্রক্রিয়ায়, কিছু ঔষধ অস্ত্রোপচারের একদিন আগে দেওয়া হতে পারে, যা সার্ভিক্স (জরায়ুর শেষ প্রান্তের সরু নালী) বড় করায় সাহায্য করে। অস্ত্রোপচারের দিন, সার্ভিক্স বর্ধক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আরও বড় করা হয়। যদি প্রয়োজন হয়, স্থানীয় অথবা সাধারণ অ্যানাস্থিজিয়া ব্যথা উপশম করার জন্য দেওয়া হয়। একটা সাকশন টিউব তখন জরায়ু থেকে গর্ভস্থ শিশুটি নিষ্কাশন করার জন্য ব্যবহার করা হয়।   

গর্ভপাত করানোর পর, আপনি হয়তো নীচের উপসর্গগুলির কয়েকটি অনুভব করতে পারেনঃ

  • বমি বমিভাব এবং বমি
    গর্ভপাত পিল (বড়ি) ব্যবহার করে মেডিক্যাল গর্ভপাতের একটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে এটা সাধারণতঃ মহিলাদের দ্বারা অনুভূত হয়। 
     
  • প্রচণ্ড রক্তপাত  
    কোনও প্রচণ্ড রক্তপাত ঘটে যখন এন্ডোমিট্রিয়াম (জরায়ুর আবরণ) সঙ্কুচিত হয় এবং গর্ভাশয় থেকে ভ্রূণ অপসারণ করার জন্য এর ভিতরের পর্দা খসায়। এটা দু’সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
     
  • শ্রোণীদেশগত খিঁচুনি
    আপনার শ্রোণীদেশগত এলাকায় খিঁচুনি, যা কোনও গর্ভপাতের পর অনুভূত হয়, কখনও কখনও আপনার মাসিকচক্র চলাকালীন আপনি যা স্বাভাবিকভাবে অনুভব করেন তার চেয়ে অধিকতর গুরুতর হয়।

বেশির ভাগ গর্ভপাত যেগুলি কোনও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিচালিত হয় যেমন উপরে উল্লেখ করা হয়েছে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, কিন্তু অল্প কিছু ক্ষেত্রে, গুরুতর জটিলতাও অনুভূত হতে পারে। এগুলির অন্তর্ভুক্তঃ

ভ্রূণগত অবশিষ্টাংশ

কিছু ক্ষেত্রে, জরায়ুগত পর্দা থেকে ভ্রূণের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ ঘটতে নাও পারে। এটা অসম্পূর্ণ গর্ভপাত হিসাবে পরিচিত। এই ধরণের কোনও ক্ষেত্রে, ঔষধ প্রয়োগ বা অস্ত্রোপচারের সঙ্গে পরবর্তী চিকিৎসা দরকার হতে পারে। 

সংক্রমণ

কোনও সার্জিকাল গর্ভপাতের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঘটতে পারে। এই ধরণের ক্ষেত্রগুলিতে অ্যান্টিবায়োটিকস এবং পেইনকিলার-এর পরামর্শ দেওয়া হয়।

অঙ্গগুলির ক্ষতি

প্রক্রিয়াটা সম্পাদন করার সময়, সার্ভিক্স বা জরায়ুতে ক্ষতি হতে পারে। যদি এটা ঘটে, ডাক্তার আর একটা সার্জারির সুপারিশ করতে পারেন।

অত্যধিক রক্তক্ষয়

যদি ঔষধ প্রয়োগ অথবা সার্জারির দু’সপ্তাহ পরেও রক্তপাত বন্ধ না হয়, এটা রক্তাল্পতা ঘটাতে পারে। এই ধরণের ক্ষেত্রে, মহিলাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করার জন্য রক্ত সরবরাহ করা দরকার। 

সংঘটিত গর্ভপাত ভবিষ্যতে আপনার গর্ভধারণ করার সম্ভাবনা প্রভাবিত করেনা। বস্তুতঃ, কোনও গর্ভপাত প্রক্রিয়ার পরবর্তীকালে একটা অল্প সময়কাল পরে গর্ভধারণ করা সম্ভব। কিন্তু, কোনও অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ এবং গর্ভপাত প্রতিরোধ করতে সঠিক জন্মনিরোধক পদ্ধতির জন্য আপনার স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।  

এটা এই কারণে যে স্বেচ্ছাকৃত গর্ভপাত যদি বারবার ঘটতে থাকে সেটা ভবিষ্যতে কোনও গর্ভস্রাব হওয়ার উচ্চতর ঝুঁকির প্রতি আপনাকে ঠেলে দিতে পারে। সেজন্য, একটা স্বাস্থ্যকর পূর্ণ-মেয়াদী গর্ভধারণ নিশ্চিত করার জন্য একটা সম্পূর্ণ চেক-আপ এবং অন্তর্নিহিত চিকিৎসাগত অবস্থার নিরাময় জরুরি।

মেডিক্যাল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি অ্যাক্ট, 1971-এর সেকশন 3 অনুসারে, কোনও গর্ভপাত সম্পাদিত করা যায় যখনঃ

  • মায়ের কোনও স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে যদি তিনি গর্ভাবস্থা চালিয়ে যান।  
  • শিশুটির শারীরিক অথবা মানসিক অক্ষমতা সহ জন্ম নেওয়ার একটা অত্যধিক সম্ভাবনা আছে।
  • কোনও গর্ভাবস্থা কোনও অপরাধ যেমন ধর্ষণের কারণে ঘটেছে অথবা কোনও ক্ষেত্রে যেখানে মহিলাটি মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। 

সাম্প্রতিক কালে, ধর্ষণের শিকার কোনও মহিলার গর্ভপাতের সীমা 24 সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ইন্ডিয়ান পিনাল কোড-এর Section 312 to 315 অনুসারে, একজন ব্যক্তি যে কোনও বেআইনি গর্ভপাত সম্পাদন করে সে জরিমানা সহ বা জরিমানা ছাড়া তিন-বৎসর কারাদণ্ড ভোগ করার জন্য বাধ্য হবে। কোনও দম্পতি যে লিঙ্গ-নির্ধারক গর্ভপাতে (মেয়ে শিশুর গর্ভপাত) প্রশ্রয় দেয় জরিমানা সহ বা ছাড়া একটা সাত-বৎসর কারাদণ্ড ভোগ করার জন্য বাধ্য হবে। 

और पढ़ें ...